শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পাঠভবনের হস্টেল পরিচালনা, আবাসিকদের নিরাপত্তা এবং খাবারের মান নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে এ বার দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা। পাঠভবনের সামগ্রিক পরিবেশ খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় স্তরে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠভবনের বহু পড়ুয়া হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই হস্টেলের পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা সমস্যা চলছে। বিশেষ করে এক হস্টেল ওয়ার্ডেনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে চিঠিতে স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, আবাসিক ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত মহিলা চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞের নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা।
হস্টেলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ সব চেয়ে গুরুতর। অভিভাবকদের দাবি, দৈনিক রান্নার খরচ বাবদ পড়ুয়া পিছু প্রায় ১০৪ টাকা করে নেওয়া হলেও খাবারের গুণমান অত্যন্ত নিম্নমানের। একাধিক বার খাবারে পোকা, মাকড়সা এবং প্লাস্টিকের মতো বিপজ্জনক বস্তু মিলেছে বলে অভিযোগ। এতে আবাসিকদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ ছাড়াও হস্টেলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারির অভাব, মিড-ডে মিলের সঠিক বণ্টন না হওয়া, নিয়মিত কাউন্সেলিং ও জরুরি যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার অভাবের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু কর্মীর অসংবেদনশীল আচরণ পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে বলেও দাবি অভিভাবকদের।
অভিভাবকদের বক্তব্য, এর আগে পাঠভবনের অধ্যক্ষ এবং বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক বার লিখিত আর্জি জানানো হলেও কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি বহু পড়ুয়া বাধ্য হয়ে স্কুল ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। সেই কারণেই শিক্ষা মন্ত্রক, শিশু কল্যাণ দফতর ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিরপেক্ষ কমিটি গড়ে হস্টেলের শিশু-বান্ধব ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
















