তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও তহবিলের দখল কার হাতে থাকবে, সেই আইনি লড়াইয়ে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা প্রক্রিয়ার দ্রুত ফয়সালার দাবি জানিয়ে সোমবার সরাসরি দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সচিবকে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন।

বিধানসভা ভোটের পর সিংহভাগ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঝুঁকেছেন। দিল্লিতেও তৃণমূলের সাংসদদের একটি বড় অংশ এনসিপিআই-তে নাম লিখিয়েছেন এবং রাজ্যসভার তিন সাংসদ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এই পরিস্থিতিতে দলের রাশ ও নির্বাচনী প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই শিবিরের টানাপড়েন পৌঁছায় নির্বাচন কমিশনে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কালীঘাট শিবিরের তরফে মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষেরা তথ্যপ্রমাণ নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিলেও অন্য পক্ষ বাড়তি সময় চেয়ে নেয়। সেই সময় বৃদ্ধির বিরোধিতা করে এবং দ্রুত রায়ের দাবিতে গত ২৯ জুলাই প্রথম চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, ১৫ অগাস্টের মধ্যেই হয়তো কমিশনের সিদ্ধান্ত চলে আসবে। কিন্তু পুরো মাস অতিক্রান্ত হতে চলায় সোমবার আবারও কমিশনকে চিঠি দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হল। নির্বাচন কমিশনের সচিব অশ্বিনী কুমার মোহির উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে মমতা স্পষ্ট উল্লেখ করেন, গত ২২ জুন কলকাতার নভোটেল হোটেলে ঋতব্রত ও অরূপ রায়দের উপস্থিতিতে যে তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশন’ হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই সভার জন্য দলের সদস্যদের কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে আমডাঙার বিধায়ক পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকীর পাঠানো বার্তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন মমতা। বিধায়কের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তৃণমূল নেত্রী জানান, পদ্ধতিগত ও সাংগঠনিক অনিয়মে ভরা ওই অধিবেশনের আইনের চোখে কোনো বৈধতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে এই ধরণের পদক্ষেপ সংগঠনের মূল কাঠামোকে দুর্বল করার অপচেষ্টা বলেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া তদন্তে আমডাঙার বিধায়কের বয়ান-সহ সমস্ত নথিপত্র যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।