ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে ফায়ার অডিট ও বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখতে সোমবার পৌঁছে যায় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর এক যৌথ প্রতিনিধি দল। বহুতলটি দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষা করার পর দমকল আধিকারিকদের দাবি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় নাকি একাধিক গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা বিকল থাকার পাশাপাশি সেখানে কোনও হিট ডিটেক্টর বা স্মোক ডিটেক্টর বসানো নেই বলে অভিযোগ উঠলেও নিমেষেই পেছনে বেজে ওঠে অ্যালার্ম। যার ফলে অপ্রস্তুতে পড়ে যান সেই পুলিশকর্মী নিজেই।
এরপরেই পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন , ''তিন দিন আগে বেআইনিভাবে আমাদের দলের সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে বিজেপি সরকারের মন ভরেনি। আজ আবার আমাদের পার্টি অফিসে ফায়ার অডিট করতে পাঠানো হয়েছে দমকল বিভাগকে। সঙ্গে ক্যামেরা, প্রচার আর পরিচিত মিডিয়া সার্কাস। বাহ! প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হতে হয়!''
এরপরেই ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে তিনি লেখেন, ''শুধু আফসোস, এই অসাধারণ তৎপরতা তখন কোথায় ছিল, যখন ভোটের মাত্র এক মাসের মধ্যে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে গিয়েছিল ৪,০০০টি Control Unit, ৪,০০০টি Ballot Unit এবং ৪,০০০টি VVPAT? তখন আগুন নিয়ে এত মাথাব্যথা ছিল না কেন? তখন ফায়ার অডিটের কথা মনে পড়েনি কেন? তখন ক্যামেরার সামনে প্রশাসনের এই প্রবল কর্মব্যস্ততা কোথায় ছিল? বোঝাই যাচ্ছে, ১২,০০০ নির্বাচনী যন্ত্র আগুনে পুড়লে সরকারের ঘুম ভাঙে না, কিন্তু বিরোধী দলের অফিস দেখলেই অগ্নিসুরক্ষার প্রতি হঠাৎ প্রেম উথলে ওঠে! আসলে ফায়ার অডিটটা ভুল জায়গায় হচ্ছে। সময়মতো আলিপুরের সরকারি দফতরে অডিটটা হলে হয়তো ১২,০০০ মেশিনই বেঁচে যেত। আর অডিটটা যদি একটু গভীরে হত, আগুনের কারণের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের আসল মুখটাও হয়তো বেরিয়ে পড়ত।''
উল্লেখ্য, শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দমকল বিভাগের একটি দল এদিন ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বিল্ডিংয়ে ঢোকে। প্রথমে বহুতলটির বাইরের অংশ ও আশপাশ ঘুরে দেখে তাঁরা ভিতরের প্রতিটি তলা পরিদর্শন করেন ও আপৎকালীন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও ফায়ার অ্যালার্মের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন। শুধু তাই নয়, বহুতলের বেসমেন্ট ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় গিয়ে সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। একই ভাবে গত সপ্তাহে কোনও লিখিত নোটিস বা বৈধ নথি ছাড়াই পুরসভা ও পুলিশ যৌথভাবে অভিষেকের কার্যালয়ের বাইরের বিলবোর্ড সরাতে যান বলে অভিযোগ ওঠে যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
















