পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে শিশুর দুধ গরম ইস্যু জল বেশি দূর গড়াতে দিলেন না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের হাতে বিষয়টি নিয়ে পরিণত পদক্ষেপ করলেন তিনি। থামিয়ে দিলেন সব বিতর্ক। বার্তা গেল অগ্নিমিত্রার মতো মন্ত্রীদের কাছেও।
শনিবার ফুটপাতে শিশুর জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) কাছে ধমক খেয়েছিলেন ফুটবাসী সীতাদেবী। এরপরই বিজেপি (BJP) সরকারের মন্ত্রীর আচরণের নিন্দার ঝড় ওঠে। রবিবার ফুটবাসী সীতাদেবীর কাছে পৌঁছে যান তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। পরে যান থানাতেও। কারণ, ওই ফুটপাতবাসীকে উঠে যেতে বলেছিল থানা। সেই কারণেই বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া সেটা আটকাতে থানার সঙ্গে কথা বলেন কুণাল। বিকেলে সেখানে যান বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তিনি উপহার ও খেলনা দেন শিশুটিকে। এর পরে স্যোশাল মিডিয়া লাইভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, প্রয়োজন তাঁরা ওই পরিবারের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এর পরেই নিজের হাতে ব্যাটন তুলে নেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিশুর দুধ গরমের তাপ আর বাড়তে না দিয়ে পরিণত পদক্ষেপ করেন শুভেন্দু।
ফুটপাত দখলমুক্ত হোক চান সকলেই। কিন্তু এক গরিব মহিলা শিশুর জন্য দুধ গরম করছেন, তাতে মন্ত্রীর ধমক-চমকে ক্ষুব্ধ হন নেটিজেনরা। তাঁদের আবেগে ধাক্কা লাগে। উদ্দেশ নয়, সমালোচিত হয় অগ্নিমিত্রার আচরণ। এগিয়ে আসেন কুণাল-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দলের তরফে পরিবারের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। জানান, তাঁর আমলেই এই ধরনের মহিলাদের জন্য নাইট শেল্টারের ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে এই ফুটপাতবাসী পরিবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া যেত। কুণালও জানান, এঁদের কোনও হোম বা সরকারি ব্যবস্থায় না পাঠিয়ে উঠে যেতে বলাটা অত্যন্ত অমানবিক। মহিলার কাছে যান বাম মহিলা সমিতির সদস্যরাও।
এই পরিস্থিতে হাল ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জল আর গড়াতে দেননি তিনি। সিএমও-র নির্দেশে প্রথমে পার্ক স্ট্রিট থানার এক আধিকারিক দেখা করেন সীতাদেবীর পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু পুলিশ দিয়ে তাঁদের নিয়ে গেলে নেচিবাচক বার্তা যেতে পারে- এই ভেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বিধায়ক সজল ঘোষকে। তিনিই সীতাদেবীদের নিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির করেন। কলকাতা কর্পোরেশনকে (KMC) বলে তাঁদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়টি সকলেই সমর্থন করেন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে একটি শিশুর দুধ গরমে বাধা দেওয়াটা নেটিজেনদের আবেগে আঘাত দেয়। এই পরিস্থিতিতে যদি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পরিবারটি দায়িত্ব নিতেন, তাহলে সেটি বর্তমান সরকারের অমানবিকতার উদাহরণ হত। মমতার পরে শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ নিয়ে অনেকে মন্তব্য করলেও জল আর গড়াতে দিলেন না মুখ্যমন্ত্রী। হয়ত শুভেন্দুকে দুপা পিছতে হল, কিন্তু ইস্যুটিকে থামিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়া সম্ভাবনা প্রায় নেই। কারণ অগ্নিমিত্রা-সহ মন্ত্রীদের অসংবেশনশীল সংলাপে রাশ পড়বে। দায়িত্বশীল প্রশাসনিক প্রধানের মতোই একটি ইস্যু বাড়তে না দিয়ে নিজের হাতে ব্যাটন তুলে পরিস্থিতি সামলে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।










