নাম ও প্রতীকের দাবির পরে এবার সশরীরে গিয়ে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের (TMC) দলীয় কার্যালয় ‘দখল’ ঋতব্রতপন্থীর তৃণমূল বিধায়কদের। শুক্রবার, সন্ধে নামার পরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritobrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha)-সহ বিক্ষুব্ধ বিধায়করা সেখানে পৌঁছে কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। পরে নতুন তালা গেটে লাগিয়ে চলে যান তাঁরা। এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের (State Government) মদতে রাজনৈতিক অসভ্যতা বলে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা-পন্থী তৃণমূল। 

দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করা ঋতব্রত-পন্থী বিধায়করা এবার হাজির বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনে। সেখানে গিয়ে সেটা নিজেদের দলীয় কার্যালয় বলে দাবি করেন। ঋতব্রত, সন্দীপনদের সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান-সহ অনেক বিধায়ক। কার্যালয়ের ভিতরে গিয়ে বসেন। আখরুজ্জামান জানান, “আমরাই তৃণমূল। এটা আমাদের কার্যালয়। এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।“ তাঁর কথায়, মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। 

পুরনো ধাঁচের পার্টি অফিস (Party Office) নয়, একেবারে কর্পোরেট স্টাইলে দলীয় কার্যালয় সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। সেই সময় ইএম বাইপাস লাগোয়া মেট্রোপলিটনে পেশায় ব্যবসায়ী মন্টু সাহার একটি বাড়ি ভাড়া নেয় তৃণমূল। বাড়ির মালিক মন্টু সাহা ও তাঁর ছেলে অমিত সাহার অভিযোগ, দেড় বছরের জন্য চুক্তি হলেও দিনের পর দিন বাড়ি আটকে রেখেছিল তৎকালীন শাসকদল। বাড়ি ফেরত না পেলে তাঁরা আইনি পথে হাঁটবেন, সেই কথাও জানিয়েছিলেন।

‘আসল’ তৃণমূলের দাবি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন ঋতব্রত-পন্থী বিধায়করা। এবার পৌঁছলেন দলীয় কার্যালয়। কিছুক্ষণ থেকে যাওয়ার সময় তালা দিয়ে চলে যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি দেওয়া ব্যানারের পাশাপাশি একটি প্রতীক দেওয়া ব্যানার টাঙিয়ে চলে যান ঋতব্রত-পন্থীরা। 

এর পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মমতা-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সেখানে গিয়ে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এর পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, আমরা কোনও দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য বা কাজ করতে পারি না। এই দলীয় কার্যালয় নিয়ে আগেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে থানায় গিয়ে সময় চেয়ে এসেছেন বলে জানান কুণাল। এর পরেই এই বিক্ষুব্ধদের তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এখন এই বিক্ষোভ দলের কর্মীরাও ভালো চোখে দেখছেন না। ঋতব্রত-পন্থীদের এই সময় কাছের জন্য তাঁরা যে এলাকার জনপ্রতিনিধি সেই বাসিন্দারা পরিষেবা পাচ্ছেন না। বিক্ষুব্ধদের এই আচরণের পরে মমতা-পন্থী নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করবেন- তা আলোচনার পরেই জানানো হবে।