"যিনি আমাকে বলতে দেননি, তিনি গণতন্ত্র শেখাবেন?", নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে ওয়াকআউট করে এভাবেই বিধানসভার স্পিকারকে নিশানা করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙার চেষ্টায় বিশেষ গোষ্ঠীকে উৎসাহ দেওয়ায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য লোকসভার সচিবালয়ের গণতন্ত্র বিষয়ক সংসদীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে দুদিন ব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের (Orientation Program) আয়োজন করা হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠান উদ্বোধনে হাজির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। 'বন্দেমাতরম' ও জাতীয় সংগীতের পর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের অনুষ্ঠান শেষ হতেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান বেলেঘাটার বিধায়ক। তিনি বলেন, বিধানসভার তরফে অনুষ্ঠান হওয়ায় সেখানে আসাটা তাঁর দায়িত্ব ছিল। কিন্তু কার বক্তব্য শুনবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কুণাল এদিন বলেন, “যিনি আমাকে বলতে দেননি, তিনি গণতন্ত্র শেখাবেন - সেটা আমি শুনব না।” প্রসঙ্গত বিরোধী দল গঠনের সময় বেলেঘাটার বিধায়ককে বলতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল রথীন্দ্র বোসের (Rathindra Bose) বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় যেভাবে অনৈতিক পদ্ধতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে বিরোধী দলের মর্যাদা দিয়েছেন স্পিকার, প্রথম থেকেই তার বিরোধিতা করেছেন কুণালরা। পাশাপাশি যেভাবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের বিভাজন সৃষ্টিকারীদের উৎসাহ দিচ্ছেন তাঁর প্রতিবাদেও সরব হয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। 

মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ বিধায়করা বারবার অভিযোগ করেছেন যে লোকসভার স্পিকার এবং বিধানসভার স্পিকার কার্যত ঋতব্রত শিবিরকে গুরুত্ব দিয়ে দল ভাঙার পরিবেশ তৈরি করছেন। তবে কুণাল এ দিন পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, যে তিনি সরকারি অনুষ্ঠান বয়কট করেননি। বিধায়ক হিসেবে কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন এবং তারপর প্রতিবাদ জানাতে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য এই শিবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁদের অনেক কিছু শিখতে হয়।' কুণাল জানান, তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তাই এই সমস্ত নিয়মের ব্যাপারে অবগত আছেন। এছাড়া যদি আরও কিছু জানার হয় সে ক্ষেত্রে প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়দের কাছ থেকে জেনে নেবেন।