এবার ৮৯তম বর্ষে পা দিতে চলেছে দেশপ্রিয় পার্কের বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব। কিন্তু এরই মধ্যে দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, "প্যান্ডেল ধ্বংস করা হয়নি। কোনও কিছু ভেঙে দেওয়া হয়নি। দেশপ্রিয় পার্কের পুজো নিয়ে দুই কমিটির বিবাদ রয়েছে।"

পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতিকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ চলছে। একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন বহু বছর ধরে পুজোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের পর স্থানীয়দের একাংশ পুরনো কমিটির কর্তৃত্ব মেনে নিতে নারাজ হন। 

আরও পড়ুন: সৎকার-কাণ্ডে থানায় গোপন জবানবন্দি অভয়ার বাবার, ধৃত নির্মলের গায়ে আদালত চত্বরে 'ডিম-চটি'

এবার দেশপ্রিয় পার্কে প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। গত ২৮ জুন খুঁটিপুজোও করা । কমিটির অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট রাত আটটা নাগাদ ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত যুবক মণ্ডপে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার পর ১১ আগস্ট রবীন্দ্র সরোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার জেরে আপাতত দেশপ্রিয় পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত "গত ১০-১২ দিন আগে কলকাতা পুরসভা বিভিন্ন জায়গায় স্ট্যাটাস জানতে নোটিশ দিয়েছে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আদালতেও একটি মামলা চলছে। আমরা এইসব বিবাদ থেকে দূরে আছি এবং থাকব।" 

বিধায়ক কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন না বলে জানান, "দুর্গাপুজো কমিটি আমাকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। সব পুজোয় যাব, কিন্তু কোনও কমিটির সঙ্গে যুক্ত হব না। কমিটির মধ্যে বিবাদ থাকলে তারা নিজেরাই তা মিটিয়ে নিক। এর মধ্যে রাজনীতি যেন না আসে।" স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য দেশপ্রিয় পার্ক-সহ এলাকার পার্কগুলি দ্রুত সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা বলেও জানিয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত।