আর জি কর-কাণ্ডে অভয়ার শেষকৃত্য ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে নাটকীয় মোড়। শুক্রবার গোপন জবানবন্দি দিতে খড়দহ থানায় হাজির হয়েছেন অভয়ার বাবা। এদিন থানায় পৌঁছে শ্মশানঘাটে ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে গোপন জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, পরিবারের অজান্তে দুটি মৃতদেহ রেখে অভয়ার দেহ সৎকার করা হয়েছিল কি না এবং সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, এদিন ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হয় প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। সেই দিনেই গ্রেফতার হওয়া অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। দুই অভিযুক্তকে থানার বাইরে আনার সময় ব্যাপক বিক্ষোভ ও জনরোষের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের আশঙ্কায় আগে থেকেই খড়দহ থানার বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশ কৌশল বদলে দু’জনকে আলাদা সময়ে থানা থেকে বের করে। প্রথমে দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ ডিম ছোড়ে, কাদা ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

প্রায় দশ মিনিট পরে নির্মল ঘোষকে বের করা হয়। তাঁকে কালো হেলমেট পরিয়ে পুলিশি নিরাপত্তার বলয়ে আনা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম, কাদা, চটি ও জুতো ছোড়া হয়। জুতোর মালা পরানোর এবং কালি লেপে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের একাংশ 'চোর-চোর' স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত দু’জনকেই প্রিজন ভ্যানে তুলে আদালতে পাঠানো হয়। 

তদন্তের সূত্রপাত হয় ৯ অগাস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পর। পানিহাটির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শ্মশানঘাটে ওই রাতের ঘটনা নিয়ে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। বারাকপুর কমিশনারেটকে অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বলেন। এরপর অভয়ার বাবা যে এফআইআর দায়ের করেন তাতে নাম ছিল নির্মল ঘোষের। অভিযোগ দায়েরের দু’দিনের মধ্যেই নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হন।

বালেশ্বর জেলার সিমুলিয়া থানার এক হোটেল থেকে নির্মল ঘোষকে লটারি-কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, তিনি মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছিলেন। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে রাজ্য পুলিশ সিমুলিয়া পুলিশের সহায়তায় তাঁকে আটক করে। এরপর অভয়া-কাণ্ডে তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট করেছে আদালত।