মান এবং হুঁশ নিয়েই মানুষ, তাঁর অন্তরে আধ্যাত্মিক জাগরণ হলে খারাপ কাজ করার প্রবণতা কমে যায়। বুধবার আদ্যাপীঠ মন্দিরে (Adyapeath Mandir) পুজো দিয়ে এমন কথাই বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, গেরুয়া রং নিয়ে রাজনীতি নয়, বরং সকলের এই রঙের মাহাত্ম্য বোঝা দরকার। ত্যাগ এবং কৃচ্ছসাধনের প্রতীক এই রং। যেভাবে মঠ মিশনের সন্ন্যাসীদের গেরুয়া পোশাকে ফুটে ওঠে মানবতার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সেভাবেই মানুষের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে 'হুঁশ' জাগরিত হলেই সমাজে মহিলাদের উপর অত্যাচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন খারাপ কাজ করার প্রবণতা কমবে। এই প্রসঙ্গে আর জি করের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দক্ষিণেশ্বরের আদ্যাপীঠ মন্দিরের নবনির্মিত দ্বার উদ্বোধনের পর আধ্যাত্মিক অনুভব আর উপলব্ধির কথা জানালেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। 

এদিন আদ্যাপীঠে (Adyapeath Mandir) একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন শুভেন্দু। পুজো দিয়ে আরতি করেন নাটমন্দিরে। নবরূপে সজ্জিত মাতৃ আশ্রমের উদ্বোধন থেকে শুরু করে গো মাতার পুজোর পর ভক্তদের কথা মাথায় রেখে মন্দিরের নতুন পরিকাঠামো ও পরিষেবা দেখে যথেষ্ট সন্তোষ প্রকাশ করেন। আদ্যা মায়ের পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণ মন্দিরেও পুজো দিতেও দেখা যায় তাঁকে। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধনের পর মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'শুধু রাজ্য বা দেশ নয় বাইরে থেকেও অগণিত মানুষ দক্ষিণেশ্বর-আদ্যাপীঠ-কালীঘাটে মাতৃ দর্শনে আসেন। কলকাতা শুধু রাজ্যের সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়, আধ্যাত্মিক রাজধানীও বটে।' তিনি আরও বলেন, সব সনাতনী প্রতিষ্ঠান শিক্ষাদান, স্বাস্থ্যপরিসেবা, সেবাদানে ব্রতী। আদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাইয়ের সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন কামনা করার পাশাপাশি অনাথ আশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়েও আলোচনা করেন। আশ্বাস দেন, ভক্তি সেবামূলক কাজ ও উন্নয়নে রাজ্য সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। কর্মসূচির ব্যস্ততার কারণে এদিন ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করতে না পারলেও পরে আবার একদিন মন্দিরে আসবেন বলেও কথা দিয়েছেন শুভেন্দু।