ফের অশান্ত মণিপুর। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে নাগা নাগরিকদের উপর পরপর হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ। শনিবার সেনাপতি জেলার কালেনজাং এলাকায় গুলিতে মৃত্যু হল দুই নাগা নাগরিকের। ঘটনায় আরও দু’জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামের প্রধানের বাড়ির ভিতরে থাকা অবস্থাতেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। নিহতদের রকি মাও এবং কুমার পউমাই হিসেবে জানা গিয়েছে। আহত দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার নেপথ্যে কারা, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় স্তরে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও পক্ষকে দায়ী করা হয়নি। ফলে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

তবে এই হামলা যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর মাত্র দু’দিন আগে কামজং জেলার ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে পিলং গ্রামে চার নাগা নাগরিক নিহত হন। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই নাগা জনজাতির ছয় নাগরিকের মৃত্যু ঘিরে পাহাড়ি জেলাগুলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরেও মণিপুরের একাধিক জেলায় পৃথক হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী হামলার নিন্দা করে একে নিরীহ মানুষের উপর কাপুরুষোচিত হিংসা বলে উল্লেখ করেছেন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। কিন্তু এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, বারবার হামলার পরেও মণিপুরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে? বিশেষ করে পরপর নাগা নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উপর চাপ আরও বাড়ছে। বিরোধী শিবির থেকেও রাজ্য সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। 

ঘটনাচক্রে, এই হামলার দিনই কেন্দ্র ও মণিপুর সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর চার মাসের অর্থনৈতিক অবরোধ সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। সেই আবহে ফের রক্তপাত মণিপুরে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়াকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল নিঃসন্দেহে।