গণনাকেন্দ্রের ৯ ঘণ্টার মধ্যে ৫ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ দেখান- দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া-র বিক্ষোভ মিছিল থেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তিনি বলেন, “কমিশনের চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। আমরা ৬ মাস বা এক বছর আগে যা বলেছিলাম, আজ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতি সেই একই কথা বলছেন।“
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কেসি বেণুগোপাল রাও, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। আকাশবাণী ভবনের সামনে ব্যারিকেড করে I.N.D.I.A-র সাংসদদের আটকাতেই তাঁরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে রাহুলরা ধর্নায় বসে পড়েন নীতি আয়োগের সামনে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিরা ক্রমাগত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে 'চোর' স্লোগান দিতে থাকেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকেও দেখা যায়, মাইক হাতে “ভোট চোর” স্লোগান দিতে। 

সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, “আমি অন্তত ১০০টা বিধানসভা কেন্দ্রের তালিকা দিতে পারি, যেখানে ভোটগণনা কেন্দ্রের ৯ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজের ৫ মিনিট প্রকাশ করতে পারবে না কমিনশন।“ নাম ধরে ধরে অভিষেক বলেন, ভবানীপুর, রায়না, সাতগাছিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া কোনও বিধানসভা কেন্দ্রের গণনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক।
সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, “কমিশনের চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। আমরা ৬ মাস বা এক বছর আগে যা বলেছিলাম, আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সেই একই কথা বলছেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ফর্ম ৬ কোনও ভাবেই অ্যাপ্রুভ করেনি। আমাদের পুরো দাবি মান্যতা দেওয়া হয়েছে। ফর্ম ৬ সুপ্রিম কোর্ট অ্যাপ্রুভ না করে, তাহলে পুরো এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বেআইনি।”
আরও পড়ুন: দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অভিষেক-কল্যাণদের আটক পুলিশের! I.N.D.I.A-র কর্মসূচি ঘিরে তুমুল উত্তেজনা
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (chief Election Commission) গ্রেফতারি দাবিতে সরব অভিষেক বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার বিজেপিকে (BJP) সুযোগ করেছে মানুষের অধিকার খর্ব করেছে। বাংলা, বিহার, মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম অমীমাংসিত তালিকায়। ভোট চোর জ্ঞানেশ কুমারের শুধু পদত্যাগ নয়, ওঁকে গ্রেফতার করতে হবে। মানুষের অধিকার কড়েছেন উনি। সেই কারণে মানুষ রাস্তায়। আর মানুষ রাস্তায় বলে শাসক ভীত। মোদি সরকার ভীত।” 















