নিজের বিতর্কিত মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কারণে ফের একবার তুমুল চর্চা ও সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি আকাশপথে ঘটে যাওয়া একটি আন্তর্জাতিক বিমানসংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর দেওয়া একটি পোস্টকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একাংশের দাবি, লেখিকা সরাসরি ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। 

আরও পড়ুন: মাত্র ২৪ ঘণ্টাতেই ইতি! অনুপম খের ও মধুমালতীর বিয়ে ভাঙার কারণ ফাঁস করলেন ভাই রাজু

সম্প্রতি ‘ফ্লাইদুবাই’-এর (flydubai) FZ1073 ফ্লাইটের ককপিটে ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। মাঝআকাশে ঘটা এই ভয়ংকর কাণ্ড এবং সহ-পাইলটের “চরমপন্থী মনোভাব” নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই টুইটার ও ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তসলিমা নাসরিন। তিনি লেখেন, “এখন তো পাইলট মুসলমান হলে সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে…”। 

আরও পড়ুন: মাইক হাতে “ভোট চোর” স্লোগান, গণনাকেন্দ্রের ৫ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ দেখান চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

লেখিকার এই মন্তব্য প্রকাশ্য আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায়। কমেন্ট সেকশনে নেটিজেনদের একাংশ যেমন তাঁর এই ‘আতঙ্ক’ ও বক্তব্যকে মৌখিকভাবে সমর্থন করেছেন, তেমনই এক বিরাট অংশ তসলিমার এই মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বহুবার কট্টরপন্থীদের নিশানায় এসেছেন এবং সমান্তরালভাবে প্রগতিশীল নেটিজেনদের কাছেও সমালোচিত হয়েছেন। 

আরও পড়ুন: রশ্মিকার পাশে বসেই সিক্রেট ফাঁস বিজয়ের!

পোস্টের নিচে নেটপাড়ার সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা লেখিকাকে মনে করিয়ে দেন যে, কোনো একজন ব্যক্তির অপরাধমূলক মানসিকতা বা উগ্রপন্থী আচরণের দায় কখনও পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো যায় না। এক নেটনাগরিক লিখেছেন, “অবিশ্বাসের ছায়া নিজেরাই ছড়াচ্ছে।” অন্য একজন তসলিমাকে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “এতদিন পরে বুঝলেন? আপনি আসলেই ব্যাকডেটেড।” আরেকজন লেখেন, “যারা মনে করে বিধর্মীদের হত্যা করতে পারলে জান্নাত কনফার্ম, তারা জান্নাতের লোভে যে কোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তাই ভয় লাগাটা স্বাভাবিক।” তবে কেউ কেউ তসলিমাকে একজন খ্যাতনামা লেখিকা হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দিয়ে লিখেছেন, “এ কি এভাবে আপনি কথা বলতে পারেন না। আপনি ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছেন”। 

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই বিরাট সুখবর, আইপিএলে কোচের হটসিটে সৌরভ

ধর্মীয় গোঁড়ামি, সমাজ ও নারীর অধিকার নিয়ে খোলামেলা ও বিতর্কিত লেখালেখির জন্য তসলিমা নাসরিন দীর্ঘ তিন দশক ধরে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভারতে বসবাস করেছেন। তবে বিতর্কের কারণে বহু বছর পশ্চিমবঙ্গেও তাঁর পা রাখার অধিকার ছিল না। যদিও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, তাঁকে পুনরায় ভারতে আসার এবং থাকার আহ্বান জানানো হয়। তিনি কলকাতায় আসেন। চলতি মাসেও তাঁর ফের কলকাতায় আসার কথা আছে। 

তবে বর্তমান ‘ফ্লাইদুবাই’ কাণ্ডকে কেন্দ্র করে সরাসরি ধর্মীয় পরিচয় টেনে তাঁর এই সাম্প্রতিক পোস্টটি নেটমাধ্যমে নতুন করে এক বড়সড় বিতর্কের আগুন উসকে দিল, তা বলাই বাহুল্য।