উৎসবের মরশুমেও রেহাই মিলছে না। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে হকারদের (Street Hawkers) রুটি-রুজি। এই পরিস্থিতিতে তাদের সমর্থনে কড়া অবস্থান নিল মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। তাদের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে উৎসবের মরশুম আসন্ন। এই উৎসবের উপরেই হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পুরো বছরের রুটি-রুজি অনেকটাই নির্ভর করে। কিন্তু এই উৎসবের সময়েও রেহাই মিলছে না হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। সমানে চলছে হকার উচ্ছেদ। এই অবস্থান থেকে রাজ্যকে সরে এসে হকারদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনওভাবেই হকারদের হেনস্থা বরদাস্ত নয়। তাঁদের সুরক্ষা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর কাজে বিপদ? আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় BLO-রা

উৎসবের মরশুমে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হকার ও স্থানীয় বিক্রেতাদের জীবিকা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা করতে হবে। এই নির্দেশ দিয়ে কমিশন জানাল, দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে দীপাবলি, ছটপুজো, ক্রিসমাস— একের পর এক উৎসব আসন্ন। গোটা দেশ সেজে উঠছে আনন্দের আলোয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বিশাল অর্থনীতিও। সেই অর্থনীতির সুফল যাতে হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পান, তার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে।

 সম্প্রতি কলকাতা সহ দেশের একাধিক বড় শহরে ফুটপাথ ও রাস্তার ধারের হকার উচ্ছেদে প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। জরিমানা করা হচ্ছে। গত বছর উৎসবের মরশুমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে। চলতি বছরে কমিশনের নতুন পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উৎসবের এই দিনগুলিই হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আসল আয়ের সময়। তাই তাঁদের মানবাধিকার ও জীবিকার অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই মর্মে মানবাধিকার কমিশন নির্দেশিকায় জানিয়েছে, দুর্গাপুজো, নবরাত্রি, দীপাবলি ও ছটপুজোর মতো উৎসবের মরশুমে স্থানীয় বিক্রেতাদের যেন কোনওভাবেই জীবিকা কেড়ে না নেওয়া হয়।

মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণে আরও জানানো হয়েছে, যদি জনসুরক্ষা বা অগ্নিনিরাপত্তার কারণে কোনও নির্দিষ্ট এলাকা খালি করা একান্তই জরুরি হয়ে পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। ভেন্ডরদের পণ্য বিনা কারণে বাজেয়াপ্ত করা চলবে না। এই সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। হকার বা ফেরিওয়ালাদের হেনস্থা করা হলে কিংবা তোলাবাজির অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। 

এই মর্মে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সামগ্রীকে উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই নিয়মগুলি যেন জেলাশাসক, পুরসভা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরকে এই নির্দেশিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। উৎসবের এই দিনগুলিতে কোনওভাবেই যেন হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকায় আঘাত না আসে।