জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে এত বছরেও কেন পদক্ষেপ করেনি পুলিশ? নন্দীগ্রামের মিলন প্রধানের পুরনো মামলা ঘিরে রাজ্য পুলিশকে কড়া ভাষায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। হাই কোর্টের দেওয়া মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ বহাল রেখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের নির্দেশ, আপাতত নির্বাচন লড়ুক মিলন প্রধান। তবে শুনানিতে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েই কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করাল শীর্ষ আদালত। ২০০৭ সালের মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কোনও পদক্ষেপ না করার বিষয়টি সামনে আসতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের প্রশ্ন, এতদিন পুলিশ কী করছিল? আদালতের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন রাজ্যের হয়ে সওয়াল করা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। খুন এবং বোমা ছোড়ার মতো অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বয়স এবং এতদিন ধরে প্রশাসনের পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আনে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, ঘটনাটি ২০০৭ সালের এবং নন্দীগ্রামের জমি সংক্রান্ত আন্দোলনের সময় একসঙ্গে ৬৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ফলে এত বছর পরেও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ার কারণ নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলেন।
রাজ্যের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন মিলন প্রধানের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। দীর্ঘদিনের এই মামলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণও এদিন বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। পুরনো মামলা হওয়া সত্ত্বেও যদি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থেকে থাকে, তা হলে এত বছর ধরে সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি কেন? এই পরিস্থিতিতে আপাতত নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে স্বস্তিতে মিলন প্রধান। কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন খারিজ করার জন্য রাজ্যের আবেদন নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আপাতত লড়াই করতে পারবেন কংগ্রেস প্রার্থী। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে জামিনের প্রশ্নে মিলনের অবস্থান বদলাল না, বরং এদিনের শুনানিতে পুলিশের দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তাই বড় হয়ে সামনে এল।















