বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও পুজোর আগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।  পুজোর আগেই ডেঙ্গি  আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে আট হাজার ছাপিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই আশার খবর, তৃতীয় দফার ট্রায়াল সফল হলে আগামী বছর বাজারে আসতে পারে ‘কিউ ডেঙ্গা’ টিকা। 

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার । এবার শুরু থেকেই ডেঙ্গির দুই প্রজাতি- 'সেরোটাইপ ২'  এবং 'সেরোটাইপ ৩'  দাপট দেখাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এরফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তের নিরিখে রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা। তারপরই রয়েছে নদিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। নদিয়ায় গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়থে পুর এলাকাতেও। 

গত বছর এই সময় নদিয়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১৯। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ৬০৫। প্রশাসন সূত্রে খবর, সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছবি নদিয়ার তেহট্ট-১ ব্লকে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ১৪১ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া রানাঘাট-২ ব্লকে ৫৬ এবং চাকদা পুর এলাকায় ৭৫ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ভিড বাড়ছে হাসপাতালগুলিতে। 

 কয়েকদিন আগেই ডেঙ্গি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছে রাজ্য সরকার। নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে স্বাস্থ্য, পুলিশ ও পুর বিষয়ক দফতর-সহ ১৬টি দফতরের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে ১২টি অতি-সংবেদনশীল বা ‘হটস্পট’ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রচার অভিযানের জন্য ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে প্রতিটি জেলার স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও জমা জলের বিরুদ্ধে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।

সরকারি ভাবে নানা ধরনের ডেঙ্গি দমন কর্মসূচি এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও, সাধারণ মানুষের একাংশের উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে জেলায় সংক্রমণের হার পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ ভবনে গিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের পক্ষ থেকে ডেঙ্গি বুলেটিন চালু করা হয়।