বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ যত জোরদার হচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের সমস্যা। সংসদ থেকে রাজপথ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে যে প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে, সেখানে একাধিক বিরোধী দল সক্রিয়। কিন্তু একই ইস্যুতে কর্মসূচি থাকলেও নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৃতিত্ব এবং আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমতকে এক জায়গায় আনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বিরোধী দলগুলির পারস্পরিক টানাপড়েনেই তা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: মারধর করে দমানো যাবে না: যাদবপুরে হুঁশিয়ারি নেহার

এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩ অক্টোবরের ডিজিটাল ‘সত্যাগ্রহ’-এর মঞ্চ থেকে তিনি কার্যত বার্তা দিয়েছেন, আলাদা আলাদা প্রতিবাদকে একই রাজনৈতিক স্রোতে যুক্ত করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু নির্দিষ্ট দল বা একটি কর্মসূচির মধ্যে আটকে না রেখে বৃহত্তর গণআন্দোলনের চেহারা দিতে চাইছে কংগ্রেস। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের আগেই সিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি খাটো করার চেষ্টা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস যে ‘উদারপন্থী ইকোসিস্টেম’-এর প্রসঙ্গ তুলেছেন, তা কংগ্রেসের একাংশ নিজেদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে।

আরও পড়ুন: সুপারস্টার নন, দেব তো ঘরের নাতি! শিলিগুড়িতে দেবকে ভালোবাসার চুমু ৮০ বছরের বৃদ্ধার

ফলে প্রশ্ন উঠছে, একই রাজনৈতিক দাবিতে পথে নামা দলগুলি যদি পরস্পরের বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক বার্তা দিতে শুরু করে, তা হলে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য কতটা কার্যকর হবে? অসমে স্কুল পরিদর্শনকে ঘিরে যে মতবিরোধের সূত্রপাত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে তা আরও প্রকাশ্য হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি সরকার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আন্দোলনে কে সামনে থাকবে, কার নেতৃত্বে কর্মসূচি হবে এবং রাজনৈতিক সাফল্যের কৃতিত্ব কে নেবে এই প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনকে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী করতে হলে আগে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাস কমানো জরুরি। নইলে একই ইস্যুতে একাধিক মঞ্চ তৈরি হলেও তার রাজনৈতিক অভিঘাত প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছবে না।