নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তার জেরেই গ্রেফতার ১৮ জন। দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় NSUI-এর বিক্ষোভ ঘিরে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে 'মিথ্যা মামলা' দায়েরের অভিযোগ তুলল ছাত্র সংগঠনটি। ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে যে, সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় ছাত্র সংগঠনটির বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশ তাদের ১৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি "মিথ্যা এফআইআর" (FIR) দায়ের করেছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন এক CISF জওয়ানের উপর হামলা, দাঙ্গা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মোট চারটি FIR দায়ের হয়েছে।

সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে NSUI। ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ঘিরে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয় তারা। Raisina Road-এ NSUI সদর দফতরের কাছে প্রতীকী ‘লিভিং ডেড’ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর Jantar Mantar-এর দিকে মিছিল করার চেষ্টা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের অভিযোগ, এক CISF কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। বিক্রম কুমার নামে ওই CISF কর্মীর ডান কনুইয়ে সামান্য আঘাত লাগে। তাঁকে RML হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে CISF কর্মীর উপর হামলার পাশাপাশি দাঙ্গা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেও মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়েছে। আসল ঘটনা এবং প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য ভিডিয়ো দেখা হচ্ছে। 

তবে পুলিশের এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে NSUI। ছাত্র সংগঠনের দাবি, তাদের ১৮ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা FIR দায়ের করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ থামানোর চেষ্টা চলছে। CISF কর্মীর আঘাতের ঘটনাটিও তারা পুলিশের বয়ানের মতো ঘটেনি বলে দাবি করেছে। NSUI-এর অভিযোগ, আটক করার সময় পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যেই ওই আঘাতের ঘটনা ঘটে। NSUI জাতীয় সভাপতি বিনোদ ঝাখর-এর নেতৃত্বে হওয়া এই বিক্ষোভে স্লোগান ওঠে—নির্বাচনে কারচুপি বা ‘ভোট চুরি’ মেনে নেওয়া হবে না, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরও দমিয়ে রাখা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবাদের ধারাবাহিকতাতেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

অর্থাৎ, একদিকে পুলিশের দাবি হিংসার ঘটনায় আইন মেনেই মামলা ও গ্রেফতার; অন্যদিকে NSUI-এর পাল্টা অভিযোগ মামলার আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমন করা হচ্ছে। CCTV-সহ তদন্তের ফলেই এখন স্পষ্ট হবে, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের ওই বিক্ষোভে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার ভূমিকা কতটা ছিল।