একটা খবরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছেন  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাংবাদিক রিতিকা  চোপড়া। বিগত কয়েক বছর ধরে বিরোধী  রাজনৈতিক দলগুলি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ  কুমারকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রিতিকার একটি রিপোর্ট তোলপাড় ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে। এর ফলে সাংবাদিক নিজেই এখন প্রচারের আলোতে।

 রিতিকা চোপাড়ার অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার প্রশংসায় গোটা দেশ। কিন্তু তিনি নিজে কী ভাবছেন? তার নিজের কথাই ব্যক্ত করেছেন একটি সাক্ষাৎকারে। রিতিকা বলেছেন, “এর আগেও আমি এই ধরনের কাজ করেছি। খবর করেছি কিন্তু এইবার সব থেকে বেশি প্রশংসিত হচ্ছি। এটা ভালো লাগছে। তবে অনেকেই বলছেন যে আপনি দেশকে বাঁচিয়ে দিলেন তবে এটা অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমি আমার কাজটুকু শুধু করেছি।”

 সমাজ মাধ্যমে ইতিবাচকের  সঙ্গে সঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। কলকাতা থেকে পড়াশোনা করা রিতিকা এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। বর্তমান যুগে যেখানে টিভি, বৈদ্যুতিন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার দাপট সেখানে মুদ্রিত মাধ্যমে (প্রিন্ট মিডিয়াতে) কাজ করার কতটা উপভোগ করছেন এই প্রসঙ্গে রিতিকা বলেছেন, “আমার কাজ মানুষের সঙ্গে মেশা সরকারি দফতরে যাওয়া, সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলা সেখান থেকে খবর সংগ্রহ করে পরিবেশন করা। আমি এটা দারুন ভাবে উপভোগ করি।”

 এর পাশাপাশি কীভাবে তদন্তমূলক সাংবাদিকতা করে এত বড় খবর প্রকাশ্যে আনলেন সেই বিষয়ে তিনি জাঠিয়েছেন জানিয়েছেন। রিতিকার কথায়, “বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সূত্র মারফত এই ধরনের খবর আসছিল যেখানে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে কাজকর্ম ঠিকমতো হচ্ছিল না। এমনকি দুই নির্বাচন কমিশনের মতামত নেওয়া হচ্ছিল না। আমি সেখান থেকেই এই কাজটা শুরু করি জানতে পারি বিগত ১০ মাসের ১৪ বার দুই নির্বাচনী আধিকারিক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন কিন্তু তাদের কোন উত্তর দেওয়া হয়নি। নতুন ভোটার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগের যিনি দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তার কাজকর্ম নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে। কোটা বিষয়টিকেই আমি খোঁজ খবর নিয়ে তথ্য দিয়েই সংবাদ পরিবেশন করি।”

 

জাতীয় নির্বাচন কমিশনে অতীতেও বিভিন্ন সময় মতবিরোধ দেখা  গিয়েছিল, কিন্তু এই প্রথম দুজন নির্বাচন কমিশনার সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে লিখিত আপত্তি তুলেছেন বসে সংবাদ পরিবেশ করা হয়েছে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সমগ্র ভোটার তালিকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইটি সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ, এই বিষয়গুলো নিয়ে কমিশনের ভেতরেই তৈরি হয়েছে গভীর অসন্তোষ।