বন্দে ভারত মানেই কেবল দ্রুতগতির ট্রেন? যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি আক্ষরিক অর্থেই জীবনদাতার ভূমিকা নিল দেশের এই প্রিমিয়াম ট্রেন। দাতার শরীর থেকে একটি 'লাইভ' হৃদপিণ্ড নিয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিল বন্দে ভারত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। যত দ্রুত দাতার দেহ থেকে হৃদপিণ্ড গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করা যায়, সাফল্যের সম্ভাবনা তত। এই সাফল্যে সাহায্য করেছে ভারতীয় রেল, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং গুজরাট পুলিশ।
রবিবার সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে সুরাট স্টেশন থেকে ছাড়ে ট্রেনটি। মাত্র আড়াই ঘণ্টার সফর শেষ করে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আমেদাবাদ স্টেশনে এসে পৌঁছয়। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সোজা ইউ এন মেহতা ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার পর্যন্ত রাস্তায় তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’। খুব দ্রুত হৃদপিণ্ড পৌঁছে যায় হাসপাতালে। চিকিৎসকদের দ্রুত অস্ত্রোপচারের ফলে সফলভাবে সম্পন্ন হয় প্রতিস্থাপন। ভারতের চিকিৎসা ও পরিবহণ ইতিহাসে এই প্রথম কোনও লাইভ হৃদপিণ্ড ট্রেনে করে এক শহর থেকে অন্য শহরে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হলো।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল একে 'সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত রেলকর্মী, পুলিশ এবং চিকিৎসকদের কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, আমেদাবাদের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) বেদ প্রকাশ একে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলে জানান। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় রেল ইতিহাস গড়ল! প্রথমবার, ২০৯০১ মুম্বই সেন্ট্রাল-গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সফলভাবে সুরাট থেকে আমেদাবাদে একটি জীবন্ত হৃদপিণ্ড পরিবহন করেছে।”
















