বিধ্বংসী হড়পা বানে নেপালে (Flash Flood in Nepal) এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধ্বংসলীলার চিহ্ন। মৃত বেড়ে প্রায় ১৩৫০। এখনও নিখোঁজ অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার! গত ২৬ অগাস্টের বিপর্যয়ের পর থেকে হিমালয়ের দেশে শুধুই স্বজন হারানোর কান্না। দুর্যোগে ছিন্নভিন্ন হয়েছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাই মৃতদেহ চিনতে কিংবা নিখোঁজদের সনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার (DNA Test) উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে অসহায় পরিবারগুলিকে। 

হাসপাতালের সামনে লম্বা লাইন, মর্গে মৃতদেহ রাখার জায়গা নেই। দেহ খুঁজে পেতে যাতে অসুবিধে না হয় সেই কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকে জিও ট্যাগিং ব্যবস্থা করা হয়েছে আগেই। কাদামাটির স্তুপ থেকে একের পর এক নিথর দেহ বেরতেই তাঁদের চেনা দায়। উত্তর নেপালে অত্যন্ত নির্মম কিছু দৃশ্য চরম বাস্তব হয়ে চোখের সামনে ধরা দিয়েছে। কোথাও ছোট শিশু সহ পরিবার ভেসে গিয়েছে জলের স্রোতে, অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেলেছে শুধু একটা কাটা হাত! নওয়ালপুরে এমন ঘটনাই ঘটেছে।কাঠমান্ডুর ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি’-তে ডিএনএ নমুনা পাঠিয়ে সেই হাতের মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস! চোখে জল নিয়ে নিখোঁজদের পরিবারের লোকেরা বলছেন, "যদি জানতে পারি মারা গেছে, সনাক্ত করতে পারি, তাহলে আর অপেক্ষা না করে শেষকৃত্য করব।" এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এই মুহূর্তে নেপালের প্রকৃত অবস্থা। 

ভোতেকোশি নদীতে হড়পা বানের পর নেপালের সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকার চালিয়ে যাচ্ছে। সাহায্য করছে অন্যান্য দেশও। পুলিশের ওয়েবসাইটে এখনও পর্যন্ত ১২৭০টি পরিচয়হীন দেহের বিবরণ আপলোড করা হয়েছে।মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ২২৭২টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার পরে রবিবার সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুয ১০৩০ মৃতদেহ সৎকার করা সম্ভব হয়েছে।