হাওড়ার আন্দুলের আবাসনে ভয়াবহ আগুন (Fire)। একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বহুতলে বহু বাসিন্দা আটকে পড়েন। দমকলের ৭টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার দুপুরে ওই আবাসনের (Housing Complex) তিনতলায় প্রথমে আগুন লাগে। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আবাসনের ভিতরে অনেকেই আটকে পড়েন। ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় আবাসনের ভিতরে দমবন্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

আগুন লাগার ফলে বেশ কয়েক জন বাসিন্দা ভিতরে আটকে পড়েন। প্রথমে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন (Fire Engine) যায়। পড়ে আরও ইঞ্জিন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ঘটনায় এক বৃদ্ধায় ঝলসে মৃত্যু (Death) হয়েছে বলে অভিযোগ। আগুনে ও ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আবাসন থেরে ১২ থেকে ১৩জনকে উদ্ধার করে দমকল। 

যে ফ্ল্যাটে প্রথম আগুন লাগে, সেটিতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ধোঁয়ায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, আবাসনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। দমকলের ৭টি ইঞ্জিনের বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। 

বুধবার দুপুরে নাগাদ আন্দুলের আমতলায় ‘উত্তরায়ন’ নামে ওই বহুতল আবাসনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। ওই আবাসনে প্রায় ২২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে নীচের তলাতেও। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো আবাসন এবং আশপাশের এলাকা। আবাসনের বিভিন্ন তলে আটকে পড়েন বাসিন্দারা। আগুনের লেলিহান শিখা পুরো আবাসনে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনে একাধিক ফ্ল্যাটের জানলার কাচ ভেঙে যায়। অনেক ফ্ল্যাটেই সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এলাকার লোকজন এবং দমকলের সহযোগিতায় আটক বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া আবাসিকদের কোল-পাঁজা করে নামিয়ে আনা হয়। তবে তার মধ্যেই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন আবাসিক। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে দমকলের ৭টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যে ফ্ল্যাটে আগুন লাগে সেটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। গৃহকর্তা গিয়েছিলেন কাজে। সেই সময় কোনও ভাবে আগুন লেগে যায়।

প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের কারণে এই দুর্ঘটনা।  পাশাপাশি গ্যাস লিক করেও এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।  দমকল সূত্রে খবর, আবাসনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। কিন্তু দমকলের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আবাসনটি তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে। বাসিন্দাদের অন্যত্র থাকতে বলা হয়েছে। যাঁদের অন্যত্র থাকার অসুবিধা রয়েছে, কিংবা থাকার জায়গা নেই, তাদের সাময়িক ভাবে থাকার বন্দোবস্ত করবে প্রশাসন। ইতিমধ্যে আবাসনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারাপীঠ এবং কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একাধিক জনের মৃত্যুর পর এবার হাওড়ায় বহুতল আবাসনে অগ্নিকান্ডে এক জনের মৃত্যু ও কয়েকজনের অসুস্থ হবার ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত বহু মানুষ।