মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ছেড়ে ‘ভালো তৃণমূল’ হয়েও মিলল না রেহাই। নিউ আলিপুরে প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) নামে দুই সংস্থার অফিসে তল্লাশি চালাল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশন। বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুরে (New Alipur) হাকিম পলিমেকার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং হাকিম কেমিক্যালস—এই দুই সংস্থার দফতরে তদন্তকারী আধিকারিকরা পৌঁছে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। ‘হাকিম পলিমেকার প্রাইভেট লিমিটেড’ উচ্চমানের প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক সংস্থা। সুলভ মূল্যে ন্যায্য দামে ক্রেতাদের হাতে সঠিক জিনিস তুলে দেওয়ার বিজ্ঞাপন করা হয়েছে ওই ওয়েবসাইটে। ‘হাকিম কেমিক্যালস’-এ রাসায়নিক জিনিস তৈরি করা হত। এদিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর (Biswajit Basu) নেতৃত্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের কয়েকজন সদস্য নিউ আলিপুরের টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড এলাকায় ওই দুই সংস্থার দফতরে হানা দেন।
কমিশন সূত্রে খবর, ফিরহাদ হাকিমের সংস্থার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান। তল্লাশির সময় সংস্থাগুলির জমি সংক্রান্ত নথি, জমির চরিত্র, প্রশাসনিক কাগজপত্র-সহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক ও অন্যান্য নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাকিম কেমিক্যালসের ক্ষেত্রেও ফিরহাদ হাকিমের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের একটি নথিতে তাঁকে ওই সংস্থার আইনগত নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতে এদিন নিউ আলিপুরের দফতরে কমিশনের তিন সদস্যের দল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালায় বলে খবর। তদন্তকারী আধিকারিকরা বেশ কিছু নথি পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, সে বিষয়ে কমিশনের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তল্লাশি অভিযান নিয়ে ফিরহাদ হাকিমের তরফে এখনও মেলেনি কোনও প্রতিক্রিয়া। দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচাতে তৃণমূল (TMC) থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরে নাম লেখান ফিরহাদ। কিন্তু তা করেও রেহাই মিলল না।
















