বর্ষার মরসুমে রাজ্যে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ রুখতে তৎপর হল প্রশাসন। ডেঙ্গি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে ডেঙ্গি সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্তের পরিসংখ্যান গোপন না করার বিষয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। রোগ নির্ণয় হলে তা স্পষ্ট ভাবে নথিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, কোনও অবস্থাতেই তথ্য চেপে রাখা চলবে না।

স্বাস্থ্য ভবনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৮। চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় রাজ্যে সংক্রমণের সামগ্রিক হার প্রায় ৫০ শতাংশ কম রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুজোর মরসুম পেরিয়ে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গির ঝুঁকি থেকেই যায়। সেই কারণে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে কড়া নজরদারি ও মশার লার্ভা নিধনের কাজ নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষার পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

মহানগরের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে, কলকাতার ১২টি ওয়ার্ডে সংক্রমণের হদিস মিললেও ৬১টি ওয়ার্ড এখনও সম্পূর্ণ সংক্রমণমুক্ত। তবে জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ডেঙ্গির প্রকোপ কিছুটা বেশি থাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বৈঠকে পুরসভাগুলির একাংশের ভূমিকা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষের পর অনেক জায়গায় পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং ডেঙ্গি দমনে স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানান তিনি। জনস্বার্থের সঙ্গে আপস বরদাস্ত করা হবে না উল্লেখ করে পুর প্রশাসনকে অবিলম্বে জমা জল পরিষ্কার ও সাফাই অভিযানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।