রেস্তরাঁর রান্নাঘরে ডাঁই করে রাখা পচা মাংস। কোনও জায়গায় আবার মাংসে ধরে গিয়েছে ছত্রাক, মিলেছে মেয়াদ-উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রীও। খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও মধ্যমগ্রামের শপিং মল থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ পচা মাংস ও অস্বাস্থ্যকর খাবার। আট বছর আগের সেই স্মৃতি ফের নতুন করে উস্কে দিয়েছে এই ঘটনা।
রাজ্যে খাদ্যসুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খাদ্যপণ্যে ভেজাল কিংবা কারচুপির ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান যে আপসহীন, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এর পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান।
মঙ্গলবার বাদুড়িয়ার দিদিমণি রোডের একটি নামী রেস্তরাঁয় হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানে রান্নাঘর থেকেই উদ্ধার হয় প্রায় ৪০ কিলোগ্রাম পচা মুরগি ও খাসির মাংস। কর্মীদের দাবি ছিল, ফেলে দেওয়ার জন্যই ওই মাংস আলাদা করে রাখা হয়েছিল। যদিও সেই যুক্তিতে কর্ণপাত না করে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরিয়েছে খাদ্য দফতর। সন্তোষজনক জবাব না মিললে রেস্তরাঁটি সিল করে দেওয়ার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
একই চিত্র ধরা পড়েছে মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন একটি বড় শপিং মলের ফুড কোর্টেও। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা সেখানে তল্লাশি চালাতে গিয়ে দেখেন, ফ্রিজে মজুত রয়েছে ছত্রাক পড়া মাংস এবং মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া খাবার ও পানীয়ের প্যাকেট। আধিকারিকদের দেখামাত্র কিছু খাবার ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও চালান কর্মীরা। বহু মানুষ প্রতিদিন যে সব ফুড কোর্টে ভিড় জমান, সেখানে এমন চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে স্তম্ভিত আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলেই কয়েকটি দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে দেন। অন্য দিকে, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়েও মিষ্টির দোকান ও ধাবাগুলিতে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে ধারাবাহিক অভিযানে পচা মাংস ও নিম্নমানের খাবার উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ফের নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে।















