রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে সরাসরি ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। বৃহস্পতিবার বিশেষ ইডি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে পুর নিয়োগ মামলার চার্জশিট। ১২,৫০০ পাতার এই বিশাল চার্জশিটে কেবল সুজিত বসু নন, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু, দুটি বেসরকারি সংস্থা এবং তৎকালীন সরকারি আমলা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের নামও অভিযুক্ত হিসেবে জড়ানো হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, গোটা পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, সুজিত বসু একাই টাকার বদলে ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। এর মধ্যে ২৮৪ জন চাকরিও পেয়ে যান। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রার্থীপিছু গড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন ইডি একাধিক নির্মাণ সংস্থা এবং সুজিত বসুর ছেলের ধাবা ও রেস্তোরাঁর বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক লেনদেনের হদিস পায়। বিশেষ করে কোভিডের সময়ে এই রেস্তোরাঁগুলিতে কীভাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলো, সুজিত বসু বা তাঁর ছেলে সঠিক উত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি ইডির। গত ১১ মে সিজিও কমপ্লেক্সে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই পুর নিয়োগ দুর্নীতির খোঁজ পান ইডি আধিকারিকেরা। সল্টলেক এবং হুগলিতে প্রোমোটার অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুরসভা নিয়োগ সংক্রান্ত বিপুল নথি উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। অয়ন শীলের সংস্থা 'এবিএস ইনফ্রাজোন' রাজ্যের পুরসভাগুলির নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে ওএমআর (OMR) শিট—সবটাই সামলাত এই সংস্থা।
অয়ন শীলের বাড়ি থেকে তল্লাশির সময় সুপারিশ সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি 'এসবি' লেখা কিছু গোপন নথিও উদ্ধার হয় গোয়েন্দাদের হাতে। তদন্ত এগোতেই দেখা যায়, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগে বিপুল গরমিল রয়েছে। আর সেই সময়েই ওই পুরসভার উপ-পুরপ্রধান পদে ছিলেন সুজিত বসু। তদন্তে নেমে ইডি সুজিত বসুর করা ৪০ জনের সুপারিশের সরাসরি নথিও উদ্ধার করে। সুজিত-ঘনিষ্ঠ নিতাই দত্তের বয়ান থেকেও উঠে আসে কীভাবে টাকার বিনিময়ে এই সুপারিশের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এই মামলায় এর আগে অয়ন শীলের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দিয়েছিল ইডি।
















