পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এ রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের আস্থা ফিরছে, WBJEE কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডেই সরকারি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১০০ শতাংশ ভর্তির আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সমাজমাধ্যমে সাফল্যের কথা পোস্ট করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বাংলায় কারিগরি শিক্ষার এই সাফল্য নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পরই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি সরিয়ে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তিনি যে বাংলার মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন তার প্রমাণ মিলেছে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বোর্ড (WBJEEB) পরিচালিত ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি এবং আর্কিটেকচার কোর্সের কাউন্সেলিং (counselling of engineering technology and architecture courses) শেষ হতেই। উচ্চশিক্ষা দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন প্রায় ১০০ শতাংশ পূরণ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি গত বছরে তুলনায় চলতি বছরে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যাটা এক ধাক্কায় প্রায় ৩৪.২৬ শতাংশ বেড়েছে।গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ হাজার ২৯৬ জন বেশি পড়ুয়া জয়েন্টের মাধ্যমে রাজ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন।আবেদনকারী ছাত্রীর সংখ্যা ৯ হাজার ৫২৮ জন যা গতবছরের তুলনায় প্রায় ৪১.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত ইতিবাচক এক দিক। এই সাফল্যের কথা সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এক্স (X ) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "বহু বছরের মধ্যে এই প্রথমবার WBJEE কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর সব আসন পূরণ হয়ে গেছে, এটি অত্যন্ত গর্বের এবং ইতিবাচক একটি বিষয়। এই ট্রেন্ড স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা এখন উচ্চতর কারিগরি শিক্ষার জন্য নিজেদের রাজ্যকেই বেছে নিচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আবারও আস্থা রাখছে দেখে মন ভরে যাচ্ছে।"

আগামী ১১ জুলাই (শনিবার) পর্যন্ত প্রথম রাউন্ডের ভর্তির প্রক্রিয়া চলবে। এরপর আরও দুই রাউন্ডের কাউন্সেলিং হবে। সম্ভাব্য জুলাই মাসের মধ্যেই অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলা হবে বলে উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে জানা গিয়েছে।