পা হারানোর অভিযোগে সরব পরিবার, 'সেবাশ্রয়' নিয়ে তদন্তে স্বাস্থ্য দফতর

সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে একটি পা হারানোর অভিযোগ ঘিরে রাজ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)। সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে ডেকে পাঠানো হয় মালতী বিশ্বাসের (Malati Biswas) ছেলে সৌম্যদীপ বিশ্বাসকে (Soumyadeep Biswas)। অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Health Minister Sharadwat Mukhopadhyay)।
Sponsored

স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সৌম্যদীপ বিশ্বাস তাঁর মায়ের চিকিৎসার পুরো ঘটনাক্রম তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, হাঁটুতে সামান্য ব্যথা নিয়ে মালতী বিশ্বাস প্রথমে মহেশতলা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলোক সংঘ ক্লাবে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ চিকিৎসক ছিলেন না বলেই তাঁদের সন্দেহ। ডাক্তারি পড়ুয়াদের চিকিৎসকের পোশাক পরিয়ে রোগী দেখানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের দাবি, ভুল ওষুধ দেওয়ার পর থেকেই মালতী বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে তাঁকে মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার মডেল ক্যাম্পে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রেফার করা হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে (M.R. Bangur)। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Calcutta National Medical College and Hospital) স্থানান্তর করা হয়। সৌম্যদীপের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর মায়ের পায়ের একটি শিরা কেটে যায়। এরপর কয়েক দিন চিকিৎসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত তাঁর ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়।
বৈঠকের পর শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, পরিবারের সমস্ত বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘সেবাশ্রয়’ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তদন্তে যে তথ্য ও প্রমাণ উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, মালতী বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে, যাতে ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিকভাবে কিছু বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, শিবিরে অনুমতি ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography) যন্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তে দেখা হবে। প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের স্বাক্ষর না থাকায় এবং লেখার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে কারা ওই শিবিরে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছিলেন এবং তাঁদের যোগ্যতা কী ছিল, তাও তদন্তের আওতায় আসবে। কোথাও কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রনগর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরও পৃথকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পরিবারের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হোক। সৌম্যদীপের দাবি, এই বিষয়ে তিনি পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

এবার মালতীপুর স্টেশনে চলল বুলডোজার! অনিশ্চয়তায় হকার - ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
4h ago

দুর্নীতিতে কোনো রেয়াত নয়! ক্যাগ রিপোর্ট পেশের দিনক্ষণ জানিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
5h ago

“কর্মফল তো মিলবেই!” দলবদল প্রসঙ্গে বিধানসভায় মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী
6h ago

কবি সুভাষের পর এবার সিটি সেন্টার মেট্রো স্টেশনের পিলারেও ফাটল! উদ্বিগ্ন যাত্রীরা
7h ago

প্রতিশ্রুতি পূরণ মু্খ্যমন্ত্রীর! রাজ্যে গঠিত হল সপ্তম পে কমিশন, চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অতনু চক্রবর্তী
8h ago

‘ঘুষখোর’ পুলিশদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ! খোলা হচ্ছে কন্ট্রোলরুম: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা
9h ago
More from রাজ্য
View All →
গণতন্ত্রের পীঠস্থানে শারীরিক বলপ্রয়োগ! বিধানসভায় কুণালকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার তীব্র নিন্দা অভিষেকের
10h ago

আমার নাম কেটেছেন কেন? আখরুজ্জামানকে কুণালের প্রশ্নে ধুন্ধুমার বিধানসভা! টেনে-হিঁচড়ে বের করা হল বেলেঘাটার বিধায়ককে
11h ago

বিধানসভায় বক্তার তালিকা থেকে নাম কাটা! কণ্ঠরোধের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কুণালের
11h ago

ট্রলার ডুবিতে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য-চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, সিকিমে টানেল বিপর্যয়েও পাশে রাজ্য
12h ago

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
15h ago
