দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) পর্ণশ্রী থানার (Parnasree Police Station) পাঁচ বছর পুরনো একটি মামলায় নয়া মোড়। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সংহিতা দাসের (Former Trinamool Councillor Sanghita Das) স্বামী অঞ্জন দাসকে (Anjan Das) শুক্রবার রাতে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ (Police)। পুনর্তদন্তের (Re-investigation) সময় অভিযোগকারীর নতুন জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলায় খুনের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর ধারা যুক্ত হওয়ার পরই এই গ্রেফতারি। 

২০২০ সালে রবীন্দ্রনগরের (Rabindranagar) এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে অঞ্জন দাস সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সেই সময় বেআইনিভাবে বাধা দেওয়া, হামলা, ভয় দেখানো এবং অপরাধে সাহায্যের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত হলেও, পরে তদন্ত শেষ করে ২০২১ সালে আলিপুর আদালতে (Alipore Court) চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। তবে ৩১ মে মাসে অভিযোগকারীর স্ত্রী নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়। আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পান সাব-ইন্সপেক্টর কুণাল বরাইক। আদালতের অনুমতি মিললে তদন্তকারী আধিকারিক অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই মামলায় নতুন করে খুনের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ধারা যোগ হয় এবং এরপর অঞ্জন দাসকে গ্রেফতার করা হয়।

সংহিতা দাস কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, অঞ্জন দাসও একসময় কাউন্সিলর এবং ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি রাজনৈতিক মহলে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Former Minister Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং একাধিক নির্বাচনে তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের (Election agent) দায়িত্বও সামলেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক নেতা শিবির বদল করলেও অঞ্জন দাস তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গেই ছিলেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট-হাজরা (Kalighat-Hazra) পদযাত্রাতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তাঁর গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।