তপসিয়ায় (Topsia) ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বৈঠকে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের (Former Trinamool MLA of Panihati, Nirmal Ghosh) উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA and State General Secretary Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, আর জি কর ইস্যুতে যিনি নিজেকে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, তাঁকেই এখন সেই বৈঠকে দেখা যাচ্ছে। 

শনিবার তপসিয়ার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন করে আর জি কর মামলার (RG Kar case) তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি পুর নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগের ভিত্তিতেও তাঁর এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্করের উপর পুলিশের নজর ছিল। দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও এদিন তিনি বৈঠকে হাজির হন। যদিও কোনও শিবিরে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে নির্মল ঘোষের বক্তব্য, তিনি শুধু দেখা করতে এসেছেন।

অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha) বলেন, নির্মল ঘোষকে আমরা এই বৈঠকে কোনও রকম আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি কেন এসেছিলেন আমার জানিনা। তাঁর সঙ্গে ঋতব্রত বন্ধ্যোপাধ্যায় বা শিবিরের কারোর কোনও রকম কথা হয়নি। তাই সাধারণ ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আমন্ত্রণ না পাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে একটা বৈঠকে চলে আসতে পারেন তিনি। মুখ বাঁচতে এখন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সাফাই দীর্ঘদিন দলে একসঙ্গে কাজ করেছি, তাই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলতে পারা যায় না।   

এদিকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, যেখানে এমন ব্যক্তিরাও উপস্থিত রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি নির্যাতিতার দেহ দাহ করার অভিযোগ উঠেছিল সেইখানে আর জি কর ইস্যুতে যিনি নিজেকে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, তাঁকেও দেখা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন, যাঁরা প্রতিবাদের কথা বলেছিলেন, তাঁরা কীভাবে সেই ব্যক্তিদের সঙ্গেই একই বৈঠকে বসতে পারেন? পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ওই বৈঠকে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই ব্যক্তিস্বার্থে গিয়েছেন, আর বাকিদের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং বাংলার মানুষের সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকদের কোনও সম্পর্ক নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে এবং থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিনের বৈঠকে ‘বিদ্রোহী’চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন, নারায়ণ গোস্বামী সহ একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। কুণাল ঘোষের দাবি, নির্বাচন কমিশন বা দিল্লির ক্ষমতাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে। তবে তাঁর কথায়, এই প্রচেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আগামী দিনে মানুষের সমর্থন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকবে, তা সময়ই প্রমাণ করে দেবে।