বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার অতীতের শাসকদলদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের জেরেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়েছিল রাজ্য। এক সময় ভাষা শিক্ষার বিকাশ আটকে দেওয়া হয়েছিল, পরে পাঠ্যক্রমের মধ্যেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ তাঁর। গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে (Ramakrishna Mission, Golpark) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই পরিবর্তন নিয়েই সরব হন তিনি।
শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্বাস করে না। যে শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে, সেই শিক্ষাই সঠিক শিক্ষা। তাঁর মতে, শুধু পরীক্ষার ফল বা বইয়ের জ্ঞানের মধ্যে শিক্ষা সীমাবদ্ধ থাকলে সমাজ গঠনের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
এরপর অতীতের শিক্ষা নীতির প্রসঙ্গ তুলে বাম আমলের সমালোচনায় মুখর হন শুভেন্দু। বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তিনি ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষার ক্ষেত্রেও সেই সময়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে পাঠ্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও করেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বাঙালি মনীষীদের যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর সতর্কবার্তা, “আর কিছুদিন এই শিক্ষাব্যবস্থা চললে বাংলার সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যেত।”
যাদবপুরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগানের প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “বাংলা নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদের ভূমি। স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এই ভূমিতে আপনি বলবেন ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’! পহেলগাম হলে মিছিল হয় না, আর ‘অপারেশন সিঁদুর’ হলে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন। এগুলো আমাদের সহ্য করতে হবে?” যাদবপুরের দেওয়ালে লেখা স্লোগান নিয়েও তাঁর মন্তব্য, “যাদবপুরের দেওয়ালে লিখবেন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’? লিখুন ‘ফ্রি পিওকে’, সমর্থন করব।”
















