সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন আন্দোলনের আঁচ রাজ্য বিধানসভায়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে টানা কুড়ি দিন ধরে অনশনে রয়েছেন সমাজকর্মী, অথচ কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারের তা নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। এবার লাদাখের পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীর সমর্থনে বিধানসভা চত্বরে ধর্নায় মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার ব্যানার প্ল্যাকার্ড হাতে এই কর্মসূচিতে শামিল হতে দেখা যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, আলিফা আহমেদ, অশোক দেবরা। রাজনীতিবিদ শোভনদেব বলেন, সোনম একটা জেনুইন ব্যাপারে আন্দোলন করছে। ওনার শরীর ভেঙে গেছে। অথচ সরকারের একটা দায়বদ্ধতা নেই কেন? কেন্দ্রের মোদি সরকারকে নিশানা করে বেলেঘাটা বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)বলেন, আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার যেভাবে অবনতি ঘটছে অবিলম্বে বিজেপি সরকারকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে। শুধু মেডিক্যাল টিম পাঠালেই হবে না, ওনার ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য দ্রুত সরকারি প্রতিনিধি পাঠানোর দাবিও করেন তিনি।
সোনমের অরাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সমাজকর্মীর সুস্থতা কামনা করেছেন। তাঁর নির্দেশমতো মহুয়া মৈত্র - সাগরিকা ঘোষরা অনশনরত ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখাও করেছেন। আজ সমাজকর্মীর অনশন আন্দোলনের প্রসঙ্গে বিধানসভায় পয়েন্ট অফ অর্ডার তুলতে গিয়েছিলেন শোভনদেব। বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'এই বিধানসভা বহু ইতিহাসের সাক্ষী। বিশ্বের এবং দেশের আন্দোলনকে বিধানসভা থেকে অতীতে সমর্থন জানানো হয়েছে। আজ তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্দোলন করছেন। যেখানে লাগাতার শিক্ষা দুর্নীতি চলছে এখানে একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। ওয়াংচুক তো কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। উনার যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সারা দেশ দুঃখ পাবে। আমরা ওনার পাশে আছি। কিন্তু যার সবার আগে পদক্ষেপ করার কথা ছিল সেই কেন্দ্রীয় সরকার এখনও উদাসীন।' রিয়েল লাইফ র্যাঞ্চোর আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ইতিমধ্যেই জনবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন সেলিব্রেটিরা। সমাজমাধ্যমে বাড়ছে চর্চা। এই অবস্থায় মমতাপন্থী তৃণমূলের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
















