শাসকের আইন নয়, রাজ্যে এখন আইনের শাসন - মুখ্যমন্ত্রী (CM) হিসেবে প্রথম দিন থেকে যে বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), নতুন সরকারের দু-মাস পেরিয়ে দেখা যাচ্ছে বাস্তবে ঠিক সেটাই কার্যকর করা হচ্ছে। বারুইপুরের কিশোরী ধর্ষণ খুনের ঘটনায় যে তৎপরতা দেখিয়েছে রাজ্য প্রশাসন, তা প্রশংসনীয়। যা যা কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সবটাই রেখেছেন। শুধু তাই নয়, যেভাবে গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের (Indrajit Mondal) পরিবারকে সহায়তা করেছেন সেভাবেই পাশে দাঁড়িয়েছেন নাবালিকার পরিবারের। অথচ তা নিয়ে বিশেষ কোনও প্রচার করতে দেখা যায়নি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পাশাপাশি অপরাধীদের শায়েস্তা করতে রাজ্যে চালু হতে চলেছে গুন্ডা দমন আইন। সোমবার থেকেই নয়া নিয়ম কার্যকর হবে। অর্থাৎ জেলায় জেলায় বাস, থানা, রেললাইন পোড়ানো এবার অতীত, শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনে এবং পুলিশ যা প্রশিক্ষণ নিয়েছে সেই আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে পারবে। এককথায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাজ্যের যথার্থ অভিভাবক হিসেবেই নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে গণধর্ষণ ও গণপিটুনির ঘটনায় একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। প্রথম থেকেই দোষীদের কড়া শাস্তির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতো ধর্ষণ খুনে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, গণপিটুনিতে ধৃত বেড়ে ৭। বারুইপুরে সামগ্রিক অশান্তির ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের বেশি গ্রেফতার। মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনে সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেছেন। দুই মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করার পাশাপাশি চাকরি দিয়েছেন। বিগত কয়েক বছরে যেভাবে রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে তা রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, এবার থেকে ধর্ষক-খুনিরা ভয়ে থাকবে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। বারুইপুর কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে খুশি আমজনতা। 

অন্যদিকে, সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য আটকাতে বিধানসভায় আগেই পাশ হয়েছে গুন্ডা দমন আইন এবং প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট আইন। এবার সোমবার থেকেই রাজ্যে নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। কোনও ব্যক্তি যদি সমাজবিরোধী কাজ করেন, কোনও সিন্ডিকেট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে তাকে 'গুন্ডা' হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রয়োজনমতো তাকে 'আটক' করার ক্ষমতা থাকবে সরকারের হাতে। নতুন আইন অনুযায়ী এই অপরাধকে 'জামিন অযোগ্য' হিসেবে গণ্য করা হবে। আইনের নির্দেশ লঙ্ঘন করলে অভিযুক্তের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন সেটা যে কথার কথা নয় তা শুভেন্দু অধিকারীর কাজের মধ্যে বারবার প্রতিফলিত হচ্ছে।