বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাকে আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছিল নতুন পর্যটন বিজ্ঞাপন ( West Bengal Tourism Ad) । কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, বাংলার পর্যটনকে তুলে ধরার জন্য তৈরি এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক বিখ্যাত পর্যটনস্থল। অথচ বাংলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলির প্রায় কোনও ছবিই নেই। ফলে সমাজমাধ্যমে নেটিজেনদের কটাক্ষ ‘বাংলার পর্যটন ভিডিওতে কোথায় বাংলা?’

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতরের ( West Bengal Tourist Department) তরফে শুক্রবার প্রকাশিত হয় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল: হোয়্যার ইন্ডিয়া ফিলস ডিফারেন্ট' ভিডিওটি। আর সেই ভিডিওটি শুরু হয়েছে কলকাতার হাওড়া ব্রিজের ( howrah Bridge) দৃশ্য দিয়ে। কিন্তু তার পরেই হয় ছবির বদল। একে একে দেখা যাচ্ছে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, মিশরের পিরামিড, ব্রাজিলের ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার, লন্ডন আই-সহ বিশ্বের নানা প্রান্তের পরিচিত স্থাপত্য ও পর্যটনস্থল। অভিযোগ, প্রায় এক মিনিটের এই ভিডিওতে বাংলার পর্যটনকেন্দ্রের উপস্থিতি কার্যত নেই বললেই চলে। হাওড়া ব্রিজের ঝলকটুকু বাদ দিলে বাংলার অন্য কোনও পরিচিত গন্তব্যকে তেমন ভাবে তুলে ধরা হয়নি। অথচ বাংলার পর্যটনের তালিকায় রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, দার্জিলিঙের টয় ট্রেন, বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির, সুন্দরবন, কালিম্পং, ডুয়ার্স-সহ একাধিক আকর্ষণ।

স্বাভাবিক ভাবেই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, বাংলার পর্যটনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে কেন বিদেশের পর্যটনস্থলকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হল? সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের কটাক্ষ ও সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায় ভিডিওটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন প্রচারে মস্কো, মিশর, রিও ডি জেনেইরো কিংবা লন্ডনের ছবি ব্যবহারের কোনও যুক্তি নেই। অন্য দিকে, তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও সমাজমাধ্যমে ভিডিওটির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, বাংলার ( West Bengal) এত সমৃদ্ধ পর্যটনভাণ্ডার থাকতে বিজ্ঞাপনে ( Advertisment) কেন দেখা গেল না দার্জিলিংয়ের পাহাড়, সুন্দরবনের জঙ্গল, বিষ্ণুপুরের স্থাপত্য কিংবা কলকাতার ঐতিহ্য? কেউ কেউ আবার ব্যঙ্গ করে বলছেন, বাংলায় পর্যটনের প্রচার করতে গিয়ে যেন বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রটাই দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভিডিও ঘিরে বিতর্ক চললেও এই বিষয় নিয়ে মুখ খোলেননি রাজ্যের পর্যটন দফতর।