গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশের ভূমিকা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার সঙ্গেও তা সরাসরি যুক্ত। সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট করে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া (Supreme Court Justice Ujjal Bhuyan)। দিল্লিতে (Delhi) একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার এবং বাহিনীর উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
বিচারপতির বক্তব্যে উঠে আসে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, কোনও নাগরিক সমস্যায় পড়লে প্রথমেই যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন, তার অন্যতম পুলিশ। ফলে সেই প্রতিষ্ঠানের আচরণে যদি নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যায়, তা হলে মানুষের আস্থাতে আঘাত লাগে। আন্দোলন বা প্রতিবাদ সামলানোর ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সংযমী ও আইনসম্মত পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও বার্তা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘তরুণ পুলিশ আধিকারিকেরা ব্যক্তিগত ভাবে বিক্ষোভকারীদের উপরে চড়াও হয়েছেন দেখলে আমরা হতাশ হই।’’ অর্থাৎ তরুণ পুলিশকর্মীদের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও যে উদ্বেগের, তা স্পষ্ট করেন বিচারপতি।
পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনাতেও কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন উজ্জ্বল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘‘বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের কাছে রাস্তায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ রাষ্ট্রের প্রতীক। তাই কারও সঙ্গে অন্যায় হলে তাঁরা পুলিশের শরণাপন্ন হন। পুলিশের সেই বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা উচিত।’’ অর্থাৎ তাঁর মতে, সংবিধান মেনে দায়িত্ব পালন, সততা, সাহস এবং পেশাগত দক্ষতাই পুলিশের কাজের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। কোনও অবস্থাতেই নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে পুলিশকে মুক্ত রাখার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
পড়ুয়াদের প্রতিবাদের অধিকার নিয়েও এর আগে একাধিকবার মত জানিয়েছেন বিচারপতি ভূঁইয়া। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের (Protesting Students) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। ভিন্নমত প্রকাশ বা প্রশ্ন তোলাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হিসেবেই দেখার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন বিচারপতি। পাশাপাশি বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি আগেই তুলে ধরেছিলেন। সব মিলিয়ে, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নই সামনে এসেছে।
















