কোন দলে আছেন- সেটা জানাতে আরও ১৪ দিন সময় চাই! বৃহস্পতিবার, ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন দলবদলু NCPI-তে সাংসদরা। কোন দিকে আছেন তৃণমূল (TMC) ত্যাগী ২০ সাংসদ? সেটা আর জানিয়ে উঠতে পারছেন না তাঁরা।
কেন তাঁদের সাংসদপদ বাতিল করা হবে না? কেন দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়বেন না? প্রশ্ন তুলে প্রথমে লোকসভার অধ্যক্ষ ও পরে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানান তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সুপ্রিম নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের নোটিশ (Notice) দিতে শুরু করেন ওম বিড়লা। কিন্তু নিজেদের অবস্থান আর জানিয়ে উঠতে পারছেন না দলবদলুরা।
বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একে একে মমতা শিবির ত্যাগ করেন ২০ লোকসভা সাংসদ (Lok Sabha)। তালিকায় আছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghoshdasti), শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, বাপি হালদার, মোহাম্মদ আবু তাহের খান, কালীপদ সরেন খেরওয়াল, অসিত কুমার মাল, মিতালী বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায় এবং শর্মিলা সরকার। দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে তাঁরা যোগ দেন অখ্যাত NCPI দলে। কিন্তু সেই দলকে এখনও স্বীকৃতি দেননি ওম বিড়লা (Om Birla)। ফলে কাকলিরা অধিবেশন বক্তব্য রাখলে সংসদ টিভি-তে তাঁদের নামের পাশে তৃণমূল সাংসদ লেখা হচ্ছে। অথচ তাঁদের দাবি মেনে অধিবেশন কক্ষে তৃণমূল সাংসদদের বসার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০ সাংসদের বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক। প্রায় আড়াই মাস অপেক্ষা করে কোনও উত্তর না পেয়ে তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। গত ২৫ অগাস্ট এই বিষয়ে জানতে চেয়ে নোটিশ দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ। পরিস্থিতি সামল দিতে আসরে নামেন সলিসিটের জেনারেল তুষার মেহেতা। জানান, ২০ সাংসদকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন বাঁচাতে সেই দিনই দলবদলু সাংসদের নোটিশ দেন লোকসভার স্পিকার।
আরও পড়ুন: নিউ টাউনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার মহিলার পচাগলা দেহ! আত্মহত্যা না খুন?
কিন্তু নির্দেশ সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও জবাব না দিয়ে আরও সময় চান সুদীপ-কাকলিরা। সেই আবেদন মঞ্জুরও করেন ওম বিড়লা। জবাব দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করেন তিনি। এর পরেই এদিন সরাসরি তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদকে নিজেদের অবস্থান জানাতে নোটিশ পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। স্পিকারের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। স্পিকার তাঁদের চিঠি দিয়ে জানান, দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে। এদিন সেই দু’সপ্তাহের মেয়াদ শেষ। ফের সময়বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠালেন সুদীপ, কাকলিদের। এখন ওম বিড়লা (Om Birla) চিঠি পেলে কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই দেখার। এদিকে কর্মপন্থা ঠিক করতে এদিন কলকাতায় বৈঠকে বসেছেন দলবদলু সাংসদরা।















