প্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণী কোথায় থাকবেন, কার সঙ্গে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তাঁর নিজের। বাবা-মা চাইলেও কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে তাঁদের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারেন না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। মেয়েকে নিজেদের কাছে রাখার আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কালাবতী দেবী। তবে মামলার শুনানি শেষে তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: পুজোর পরেই পুরভোটের দামামা: ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ-২ ডিসেম্বর গণনার প্রস্তাব কমিশনের
মেয়ে পূজাকে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ চেয়ে হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেছিলেন কালাবতী। তাঁর বক্তব্য ছিল, মেয়েকে তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আদালতের নির্দেশে পূজাকে হাজির করা হলে তিনি জানান, নিজের ইচ্ছাতেই দিল্লিতে থাকছেন এবং সেখানে স্বাধীনভাবে জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁকে কেউ জোর করে আটকে রাখেনি বা বেআইনিভাবে হেফাজতে রাখেনি বলেও আদালতকে জানান তিনি।
শুনানির সময় পূজা স্পষ্ট করে দেন, তিনি মায়ের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁর অভিযোগ, বাড়িতে থাকার সময় মায়ের হাতে তাঁকে একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। যদিও মেয়ের এই অভিযোগ অস্বীকার করেন কালাবতী। তাঁর ইচ্ছা ছিল, মেয়ে তাঁদের সঙ্গেই থাকুন। কিন্তু পূজা যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের সিদ্ধান্তের কথা আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে মায়ের কাছে ফেরানোর কোনও সুযোগ নেই বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
আরও পড়ুন: কার্তিক মহারাজের পর মিঠুন! ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদার পরামর্শদাতা পদে বসাল রাজ্য সরকার
মামলার শুনানিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈন জানান, সাবালক হওয়ার পর একজন ব্যক্তি নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। কোথায় থাকবেন, কার সঙ্গে থাকবেন কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করবেন কি না এসব সিদ্ধান্ত অন্য কেউ তাঁর উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। শুধুমাত্র বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যায় না। এই কারণেই পূজাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।















