নির্বাচন কমিশনার (Election Commissioner) নিয়োগ আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নয়া মোড়। ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে চলা মামলায় বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার (Satish Chandra Sharma) দেওয়া সিদ্ধান্তই এবার প্রত্যাহার করা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি শর্মার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আর্জি নিয়ে এবার শুরু হতে চলেছে নতুন আইনি পর্যালোচনা।
আরও পড়ুন: খড়গপুরে দিনদুপুরে গুলি, রক্তাক্ত দ্বাদশের ছাত্র
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন নিয়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত (Dipankar Dutta) এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে শুনানি হয়েছিল। কিন্তু মামলাটি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে দুই বিচারপতির মত মেলেনি। বিচারপতি দত্ত বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদন খারিজ করে দেন। অন্যদিকে বিচারপতি শর্মার মত ছিল, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোই যুক্তিযুক্ত। দুই বিচারপতির ভিন্ন মতের জেরে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: জামিন পেয়েও ৬০ দিন জেলে! রাজ্যকে ৫.৩৬ লক্ষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাই কোর্টের
এর মধ্যেই বিচারপতি শর্মার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আবেদন জমা পড়েছে। এবার সেই আবেদনই পরীক্ষা করবে সুপ্রিম কোর্ট। এই বিতর্কের সূত্রপাত আরও কয়েক বছর আগে। ২০২৩ সালের মার্চে "অনুপ বরনওয়াল বনাম ভারত সরকার" মামলায় পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। সংসদ নতুন আইন না আনা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের কথা বলা হয়েছিল।
এরপরই কেন্দ্র সংসদে নতুন আইন আনে। সেই আইনে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাখা হয়। কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী। এই ব্যবস্থাকে নিয়েই আপত্তি ওঠে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ এবং মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর নতুন আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, তিন সদস্যের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মনোনীত মন্ত্রী থাকায় ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। ফলে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কাঠামো কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, সেই প্রশ্নই মূলত সামনে এসেছে। এখন বিচারপতি শর্মার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী অবস্থান নেয়, সেটিই দেখার।















