ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। উত্তরাখণ্ডকে কেন্দ্র করে হওয়া এই কম্পনের তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চল ছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব এবং হরিয়ানায়। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ হঠাৎ কম্পন অনুভূত হতেই বহু বহুতল ও বাড়িঘর থেকে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.৪। জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ডের খাডুন লাগা গাওয়ালি এলাকা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে ভূপৃষ্ঠের গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল। পার্বত্য এই রাজ্যে কম্পন অনুভূত হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী সমতল এলাকাগুলিতেও।

রাত সাড়ে দশটা নাগাদ যখন অনেকেই রাতের খাওয়া সেরে ঘুমনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে আচমকা দুলে ওঠে সিলিং ফ্যান, খাট ও ঘরের আসবাবপত্র। দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদে বহুতলের বাসিন্দারা দ্রুত সিঁড়ি ভেঙে খোলা জায়গায় নেমে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, কম্পন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু তীব্রতা যথেষ্ট থাকায় মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

একই ছবি দেখা গিয়েছে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন শহরেও। আচমকা বাড়িঘর কাঁপতে থাকায় নিরাপত্তার তাগিদে মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ির বাইরে ভিড় জমান। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে ধীরে ধীরে ঘরে ফেরেন তাঁরা। কম্পনের জেরে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে ঘনঘন কম্পনের ঘটনায় নতুন করে ভূতাত্ত্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উত্তরাখণ্ড ও উত্তর ভারতের জনপদে।