নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলা বিরোধীদের লড়াই এ বার পৌঁছতে চলেছে রাষ্ট্রপতি ভবনে। মঙ্গলবার নির্বাচন সদন অভিযানের পর এ বার সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে উদ্যোগী হল ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের একগুচ্ছ নালিশ জানাতে চান বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সাক্ষাতের আর্জি জানিয়ে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ জোটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দলের সংসদীয় নেতারা একযোগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। লোকসভা ও রাজ্যসভার সমস্ত বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নিয়েই রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকেই এই কর্মসূচির নীল নকশা তৈরি হয়েছিল। সেখানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রথম বড় কর্মসূচি হিসেবে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের দিকে পা মেলান বিরোধী সাংসদরা। রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে-সহ একাধিক দলের প্রথম সারির নেতারা মিছিলে শামিল হন। তবে নির্বাচন সদনের কাছাকাছি পৌঁছতেই তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। প্রতিবাদে কমিশনের ঠিক উল্টো দিকে, আকাশবাণী ভবনের সামনে পথেই অবস্থানে বসে পড়েন বিরোধী নেতৃত্ব।

শুধু রাষ্ট্রপতি ভবনেই নয়, কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে আরও বড় মাত্রায় ছড়িয়ে দিতে চাইছে বিরোধী পক্ষ। ভোটার তালিকায় গরমিল ও ‘ভোটচুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগগুলিকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে দেশের পাঁচটি বড় শহরে ধারাবাহিক জনসভা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিরোধী মঞ্চ। সংসদ ও রাজপথের পাশাপাশি এ বার শীর্ষ সাংবিধানিক স্তরেও কমিশনের বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখতে মরিয়া ‘ইন্ডিয়া’ জোট।