সাইবার প্রতারকদের জালে পড়ে ফের সর্বস্ব খোয়ালেন এক সাধারণ যুবক। হোয়াটসঅ্যাপে একটি অজানা নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল রিসিভ করতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল এক নগ্ন মহিলার ভিডিও। চরম আতঙ্কে মুহূর্তের মধ্যে যুবক ফোন কেটে দিলেও শেষ রক্ষা হল না। ভয় দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেল করে ওই যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার অপরাধীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের আহমেদাবাদের ওয়াদাজ এলাকায়।
আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুর-ইন্ডিয়া ফোরামে ভারত-সিঙ্গাপুর বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা প্রসূনের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ওই যুবকের বয়স ২৫ বছর। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর মোবাইলে প্রথম একটি অজানা নম্বর থেকে ভিডিও কল আসে। যুবকটি কলটি রিসিভ করতেই ওপারে এক নগ্ন মহিলাকে দেখতে পান। অপ্রস্তুত এবং আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত কলটি কেটে দেন এবং ওই নম্বরটি ব্লক করে দেন। কিন্তু আসল ফাঁদ পাতা হয়েছিল তার পরেই।
কল কাটার কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্য একটি নম্বর থেকে ওই যুবকের কাছে ফোন আসে। অপর প্রান্তের ব্যক্তি দাবি করে, ভিডিও কলের সময়ে যুবকের একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ রেকর্ড করে নেওয়া হয়েছে এবং টাকা না দিলে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হবে। প্রথম দফায় যুবকটি টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার! পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস
এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর কাছে পুনরায় ফোন আসে। এবার এক ব্যক্তি নিজেকে দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। সে যুবককে ভয় দেখায় যে, এই ধরনের আপত্তিকর ভিডিওর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তাঁর ৭ বছরের জেল হতে পারে।
ভয় আরও বাড়াতে প্রতারকরা নিজেদের ইউটিউব (YouTube) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আরও এক ব্যক্তির সঙ্গে যুবকের কথা বলায়। সেই ভুয়ো কর্মকর্তা দাবি করে, যুবকের দুটি আপত্তিকর ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে এবং তা মুছতে হলে অবিলম্বে ৭১,২৫০ টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ৪০ বছরের চেনা টানে ইতি, বাগবাজারের সাবেকি প্রতিমায় নতুন তুলির টান!
নিজের সামাজিক সম্মান এবং কেরিয়ার বাঁচাতে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই যুবক। তিনি প্রথমে ৭১,২৫০ টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেন। কিন্তু প্রতারকদের লোভ এখানেই থামেনি। এরপর ভিডিও ডিলিট করা, পুলিশি কেস রফা করা এবং আইনি জটিলতা থেকে মুক্তির নামে দফায় দফায় যুবকের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হতে থাকে। লোকলজ্জা ও গ্রেফতারির ভয়ে যুবকের সঞ্চিত অর্থ এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৪৯.৭৮ লক্ষ টাকা প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন: কর্মাধ্যক্ষের মৃত্যুর পর ভোটাভুটি, বাধার মুখে তৃণমূলরা
টাকা দেওয়ার পরও যখন লাগাতার ব্ল্যাকমেল ও বাড়তি টাকার দাবি চলতে থাকে, তখন যুবক বুঝতে পারেন যে তিনি সাইবার জালিয়াতদের খপ্পরে পড়েছেন। এরপরই তিনি আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে সেগুলিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং ফোন নম্বরগুলির আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে অপরাধীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কর্মাধ্যক্ষের মৃত্যুর পর ভোটাভুটি, বাধার মুখে তৃণমূলরা
বারবার সচেতনতার পরেও কেন এরকম ভুল হচ্ছে তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। এই ধরনের ব্ল্যাকমেলিং বা ‘সেক্সটর্শন’ থেকে বাঁচতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) আইনজীবীরা ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
অচেনা ভিডিও কল এড়িয়ে চলুন: অপরিচিত বা অজানা নম্বর থেকে আসা কোনো ভিডিও কল ভুলেও রিসিভ করবেন না।
ক্যামেরা ঢেকে রাখুন: ভুলবশত অচেনা ভিডিও কল রিসিভ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা হাত দিয়ে বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে দিন, যাতে আপনার মুখ স্ক্যামাররা রেকর্ড করতে না পারে।
ভয় পাবেন না, টাকা দেবেন না: কোনো পুলিশ বা সরকারি আধিকারিক ফোন বা মেসেজে টাকা দাবি করেন না। তাই হুমকি এলেও ভয় পেয়ে কোনো টাকা ট্রান্সফার করবেন না।
দ্রুত অভিযোগ জানান: এই ধরনের ফাঁদে পা দিলে কালবিলম্ব না করে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টাল Cybercrime.gov.in-এ দ্রুত অভিযোগ নথিভুক্ত করুন।















