উত্তর কলকাতার সাবেকি পুজোর প্রাণকেন্দ্র বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রতিমা নির্মাণে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক বদল। দীর্ঘ ৪০ বছরের চেনা ঐতিহ্যে ছেদ টেনে ২০২৬ সালের পুজোয় পরিবর্তন করা হল মূল প্রতিমা শিল্পীকে। প্রতি বছরের মতো এবার আর শিল্পী খোকা পালের তুলির টানে মায়ের চোখ ফুটল না। তাঁর পরিবর্তে মঙ্গলবার অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর চক্ষুদান পর্ব সম্পন্ন করলেন নতুন প্রতিমা শিল্পী ইন্দ্রনাথ পাল।

আরও পড়ুন: কর্মাধ্যক্ষের মৃত্যুর পর ভোটাভুটি, বাধার মুখে তৃণমূলরা

কলকাতা হাইকোর্টের আইনি জটিলতা এবং পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ জট কাটিয়ে বেশ দেরিতেই শুরু হয়েছিল বাগবাজার সর্বজনীনের পুজোর প্রস্তুতি। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজ এখন তুঙ্গে। ১০৮ বছরে পদার্পণ করা এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক পুজোর গরিমা এবং ঐতিহ্য সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলেই পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, কুণাল মুখ খুললেন পুনর্নির্বাচন নিয়েও

বাঙালির নস্ট্যালজিয়া আর খাঁটি সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনে বাগবাজারের একচালা ডাকের সাজের প্রতিমা বরাবরই কলকাতার পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। থিমের আধুনিক জৌলুসের মাঝেও এই প্রতিমার চিরন্তন রূপ দেখতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ ৪ দশক ধরে দক্ষ তুলির টানে দেবীর চক্ষুদান করতেন শিল্পী খোকা পাল। কিন্তু এবার তরুণ শিল্পী ইন্দ্রনাথ পাল প্রতিমার চক্ষুদান করলেন। জানা গিয়েছে, পুজোর কমিটি বদল হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এই বদল হওয়াতেই কি পরম্পরা বদল? 

আরও পড়ুন: পলাতক প্রশান্ত বর্মনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ হাই কোর্টের

সূত্রের খবর, বাগবাজার সর্বজনীনের প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে থাকা শিল্পী জীতেন পাল মারা গিয়েছেন। সেজন্য জীতেনের ছেলে শিল্পী নারায়ণচন্দ্র পাল এবার এই প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রতিমা জোরকদমে তৈরিও হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের মতে, শিল্পী বদল হলেও মায়ের সেই চেনা অতসীপুষ্পবর্ণা রূপের গরিমা যেন এতটুকু মলিন না হয়, সেই দায়িত্বই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন নতুন শিল্পী ইন্দ্রনাথ পাল। 

আরও পড়ুন: কৃষিযন্ত্র কিনতে ৮০ শতাংশ ভর্তুকি, মঙ্গল থেকেই আবেদন অনলাইনে

দীর্ঘ ৪০ বছরের পরম্পরায় নতুনের ছোঁয়া। শিল্পীর হাত বদলে আদৌ কি বজায় থাকবে মায়ের সেই চিরাচরিত সাবেকি মৃণ্ময়ী রূপ? নাকি নতুন শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় বদলে যাবে মায়ের রূপ। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। তবে মহালয়ার প্রাক্কালে দেবীর এই চক্ষুদান পর্ব সম্পন্ন হতেই বাগবাজারের মণ্ডপে যে মায়ের আগমনের ঘণ্টা বেজে উঠল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।