সপ্তাহের শুরুতেই স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা শহর। একদিকে সামনেই পুজোর কেনাকাটার ভিড় অন্যদিকে বৃষ্টির পর জল জমা ও রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে EM Bypass-এর কয়েকটি অংশ এবং আলিপুর রোডে জল জমার ফলে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে সাধারণ মানুষ। এই মর্মে ডিসি ট্রাফিক সম্ভব জৈন জানান, ''এসএফআইয়ের মিছিল ছাড়াও এদিন ব্যাঙ্কশাল কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের বিক্ষোভ থাকায় বেশ কিছুক্ষন বন্ধ ছিল ডালহৌসির গোটা অঞ্চলের যান চলাচল।'' ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে বিক্ষোভের সময় ডিম ছোড়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় আইনজীবীদের মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ল। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার পথে নামেন ব্যাঙ্কশাল আদালতের আইনজীবীরা। ডালহৌসি চত্বরে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ফলে মধ্য কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে ইউটিউবার দীপক ব্যাপারীকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে। হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করতে নিয়ে আসে। সেই সময় আদালত চত্বরে এক দল বিক্ষোভকারী দীপক ব্যাপারীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই কয়েকজন আইনজীবীর উপর হামলা চালানো হয়। আইনজীবীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে।
সেই দাবিতেই সোমবার ডালহৌসি চত্বরে অবরোধে বসেন ব্যাঙ্কশাল আদালতের আইনজীবীরা। আইনজীবী অভিজিৎ বল এই নিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সব অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এই পথ অবরোধ চলবে।” অন্যদিকে, আইনজীবীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ব্যাঙ্কশাল আদালতের আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। ফলে আদালতের কাজকর্মের পাশাপাশি শহরের ব্যস্ত ডালহৌসি এলাকাতেও তার প্রভাব পড়েছে। অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি প্রতিমা ও পুজোর সামগ্রী পরিবহণ শুরু হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি রুটে যানজটের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। লালবাজার ইতিমধ্যেই ৮ অক্টোবর থেকে প্রতিমা পরিবহণ ঘিরে একাধিক রুটে নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। পালাবদলের পর কলকাতার যান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট, ধীর গতির ট্রাফিক এবং দীর্ঘক্ষণ গাড়ির সারি নিয়ে নীরব প্রশাসন। সরকার বদলের পর কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নজরদারি ও সমন্বয়ের ঘাটতি নিঃসন্দেহে অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। অফিস টাইম থেকে শুরু করে দিনের ব্যস্ত সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট কার্যত নিত্যদিনের ছবি হয়ে উঠছে। কোথাও খারাপ রাস্তা, কোথাও পার্কিং সমস্যা, আবার কোথাও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে বলেই অভিযোগ শহরবাসীর।















