বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। ফলে অনেকেই কুরুচিকর আক্রমণ করেন অন্যদের বা মন্তব্য করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জাত তুলে অপমান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
ফেসবুকে তপশিলি জাতির এক ব্যক্তিকে জাতিবিদ্বেষী গালাগালি করার অভিযোগে পুলিশ রিপোর্ট নিয়ে অসন্তুষ্ট বিচারপতি সেটা খারিজই করে দিেলন। বিচারপতি উদয় কুমার সাইবার-ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী তপশিলি সম্প্রদায়ের একজন বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, রবিউল ইসলাম বুলবুল এবং সায়ন দত্ত নামে দুই ব্যক্তি ফেসবুকে তাঁর জাতি, ধর্ম, এমনকি পরিবার তুলে অত্যন্ত অশ্লীল ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি সেই পোস্টের স্ক্রিনশট সহ বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে ২০২২ সালে বেহালা থানায় ২৭৪ নম্বর মামলা রুজু হয়, যা পরে আলিপুরের স্পেশাল কোর্টে স্পেশাল কেস ৮৯/২০২২ হিসাবে চলে।
পুলিশ তদন্তে অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দি, সাক্ষীদের বয়ান এবং ফেসবুক লিঙ্ক বাজেয়াপ্ত করে। কিন্তু ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে ‘নিল’ বা ‘কোনও সূত্র মেলেনি’ বলে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয়। পুলিশের যুক্তি ছিল, কলকাতা সাইবার থানার মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে ইউজারের তথ্য চাওয়া হলেও তারা তথ্য দেয়নি।
আদালতের এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ, তপশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে ‘জনসমক্ষে অপমান’ বা ‘পাবলিক ভিউ’ বলতে শুধু রাস্তাঘাট বা হাট-বাজারে অপমান বোঝায় না। ফেসবুকের মতো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে করা মন্তব্যও এর আওতায় পড়বে। কারণ সেখানে হাজার হাজার মানুষ সেই মন্তব্য দেখতে পান।
অভিযোগকারী এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু আলিপুরের স্পেশাল কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে পুলিশের রিপোর্টই মেনে নেয়। স্পেশাল কোর্টের যুক্তি ছিল, একই অভিযোগকারী আগেও তিনটি মামলা করেছেন যেখানে চার্জশিট জমা পড়েছে, তাই এই মামলায় পুলিশ যখন ‘নিল’ বলছে, তখন তা মেনে নেওয়া উচিত।
হাইকোর্ট এই যুক্তিকে তীব্র ভাষায় খারিজ করে দেয়। বিচারপতি বলেন, “স্পেশাল জজের এই যুক্তি বিচারবুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে।” শুধুমাত্র একজন মানুষ আগে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে তাঁর নতুন অভিযোগকে মিথ্যা বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিটি অপরাধকে তার নিজস্ব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলাদাভাবে বিচার করতে হবে।
আদালত এই বিষয়ে আরও জানিয়েছে, ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন বদলেছে। ফেসবুকে করা জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপমান করার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। তাই পুলিশকে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে, সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে তদন্ত করতে হবে।















