যাদবপুরের পর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটন( SRFTI )। ফের অশান্ত কলকাতা তথা দেশের ঐতিহ্যশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই ২ ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ছড়াল উত্তেজনা। রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় থাকে ক্যাম্পাসে।
রাত বাড়লেও অশান্তি থামেনি। SRFTI-এর ঘটনায় তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে পর্ণশ্রী থানায়।পুলিশের তরফ থেকে একটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক ছাত্র।
এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিসি সন্তোষ আজমেরা। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কাম্য নয়।SRFTI দেশের অন্যতম অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান!শিক্ষার্থীরা এখানে কোনও ধরনের হিংসার সম্মুখীন হওয়াটা কাম্য নয়! আমরা পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিষয়ে নজর রাখছি! চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে! গোটা বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়েছে।”
জানা গিয়েছে রবিবার অখিল ভারতীয় পঞ্চায়েত গ্রাহকের অনুষ্ঠানে উত্তেজনার পরিস্থিতি এতটাই বেড়ে যায় যে ক্যাম্পাসের মূল প্রবেশদ্বার আটকে দেন পড়ুয়া। এমনকি অধ্যাপকরাও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। প্রভাতের অভিযোগ এই অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল না, যদি অখিল ভারতীয় পঞ্চায়েতের সদস্যরা তা মানতে নারাজ।
সাংবাদিক বৈঠকে এসআরএফটিআই-এর ছাত্ররা দাবি করেছে দফায় দফায় তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ছাত্রদের বক্তব্য, প্রথম দফায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন উপস্থিত পড়ুয়াকে ১৫-২০ জনের বহিরাগত দল ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করে। এতে ৩ জন ছাত্র মারাত্মকভাবে জখম হয়। একজনের পিঠে ধারালো অস্ত্র বা ছুরির গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং অন্য একজনের ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। দ্বিতীয় দফায় বহিরাগতদের জমায়েত আরও বড় হলে তারা বড় বড় ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। এতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন পড়ুয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা বা তা নিয়ে ভাবার অবকাশই নেই কারণ তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তারা এখন স্রেফ নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আতঙ্ক এখন ক্যাম্পাসের মধ্যে। গোটা ঘটনা বিজেপি আরএসএসের পূর্ব পরিকল্পিত বলেই অভিযোগ করেছেন এসএফআইয়ের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনায় সরাসরি বামেদের দায়ী করে লিখেছেন, “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা আর নিকৃষ্ট মানসিকতার আজ আবারও প্রকাশ্যে এল।”
















