শনিবার বিকেল হওয়ায় রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে নেই শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকরা। সেই কারণেই আক্রান্ত বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সেখানে গেলে বাধা দেওয়া হয়। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গাড়ির উপর ভয়ঙ্কর হামলা হয়। আহত হয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। সেই অবস্থাতেই গাড়ি নিয়ে ভবানীভবনে উপস্থিত হন কুণাল। কিন্তু তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তাঁর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ।
শ্রীরামপুরে সভায় যাওয়ার সময় জি টি রোড ধরেছিলেন কুণাল। সেখানেই তাঁর গাড়ির উপর ভয়ঙ্কর হামলা হয়। রাস্তা আটকে সমানে ডিম ছোড়া হয়। প্রথমে পাথর, ইট ছোড়া হয়। তারপরে বড় রড নিয়ে এসে গাড়ির কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। আর সেই কাচ ভেঙে পড়ে কুণাল ঘোষের ঘাড়ে, গায়ে। পরিস্থিতি সামলাতে কোন পুলিশকে (Police) পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই দলনেত্রীর সভায় না গিয়ে কলকাতায় ফিরে সোজা ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। একই সঙ্গে ইমেলে উত্তরপাড়া থানায় বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
প্রথমে যখন ভবানী ভবনের সামনে হাজির হন কুণাল প্রথমে তাঁকে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। অত্যন্ত উদ্যোত ভাবে আলিপুর থানার পুলিশ আধিকারিক কুণালের গাড়ি চালককে সরে যেতে বলেন। পরে গাড়ি থেকে নেমে কুণাল হেঁটে ভবানী ভবন ঢুকতে গেলেও বাধা গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কুণাল ঘোষকে উত্তরপাডা় থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন উপস্থিত পুলিশকর্মীরা৷ এ নিয়েই বিধায়কের সঙ্গে বচসা বাধে।
পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে কুণাল বলেন, “মার খাচ্ছি তখন পুলিশ নেই, নালিশ জানাতে এলে ঢুকতে দেবেন না৷ দাঁড় করিয়ে খুনের চেষ্টা হল৷ যে কোনও একজন অফিসারের সঙ্গে কথা বলব, আমার বক্তব্য জানাব, গাড়িটার অবস্থা দেখাব৷ যে কোনও একজন অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাই৷ল আইনে যা আছে সেই অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিক৷“ কুণাল জানান, ঘটনার পরেই ইমেলে তিনি পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছেন৷ কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ কুণালের৷
ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল। বলেন, শনিবার বিকেল বলে ভবানী ভবনে কোনও শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক নেই। সেই কারণেই তাঁর সঙ্গে কথা বলার কেউ ছিল না। যাঁরা ছিলেন তাঁরা উত্তরপাড়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে, এই বিষয়ে বিশদে জানাতে চাননি বেলেঘাটার বিধায়ক। তিনি বলেন, পুলিশ যোগাযোগ করেছে। তাঁদের তরফ থেকেও ভিডিও-সহ তথ্য-প্রমাণ পুলিশকে দেওয়া হবে। সোমবার, তাঁরা আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে জানান কুণাল। কিন্তু একজন বিধায়ককে কেন রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হল- তা নিয়ে সদুত্তর নেই পুলিশের কাছে।















