পুজোর মরশুম শুরু হতে আর হাতেগোনা মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মণ্ডপ তৈরি থেকে প্রতিমা নির্মাণ সর্বত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতা। বারোয়ারি পুজোর আয়োজনের ব্যস্ততার মাঝেই উদ্যোক্তাদের চাপ বাড়িয়ে এবার পুজো মণ্ডপে এলইডি বিজ্ঞাপনের জন্য চড়া হারে কর ধার্য করল কলকাতা পুরসভা (KMC)। আগেই পুজোর হোর্ডিং, ব্যানার, অস্থায়ী গেট লাগানোর জন্য অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল নতুন সরকার। এবার জানিয়ে দেওয়া হল বিজ্ঞাপনের জন্য এলইডি পিছু প্রতি বর্গফুটের জন্য ৬০০ টাকা জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। যার ফলে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন এবং বাজেট নিয়ে চিন্তা বাড়লো পুজো কমিটিগুলোর।
আরও পড়ুন: বাংলার অভিশাপ লেগেছে! সকলকে শ্রীঘরে থাকতে হবে: বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ অভিষেকের
কলকাতার শহরের বারোয়ারি পুজোগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে এলইডি বিজ্ঞাপন লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার তহবিল জোগাড় করতে পেরেছিল কমিটিগুলো। এবারও সেরকম পরিকল্পনা করেই এগোনো হচ্ছিল। বেশ কিছু পুজো মণ্ডপ চত্বরে ডিজিটাল বোর্ড সংক্রান্ত বুকিং সম্পূর্ণ হয়েও গেছে। এরই মাঝে চড়া হারে কর দিয়ে অনুমতি নেওয়ার যে নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভা, তাতে মাথায় হাত নামি বিজ্ঞাপন এজেন্সিদেরও। কারণ যে হারে এই কর ধার্য হয়েছে তাতে জাম্বো LED হোর্ডিং লাগালে একেক দিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর্পোরেশনকে জমা দিতে হবে। ছোট বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও দৈনিক খরচ ন্যূনতম ২৫ হাজার! বিজ্ঞাপনের জন্য এত টাকা কোম্পানিগুলো দিতে রাজি হবে কি, চিন্তায় পুজো উদ্যোক্তারা। কেউ যাতে ফাঁকি দিতে না পারে সেই কারণে এলইডি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে অনুমতির আইডি নম্বর লাগিয়ে রাখা নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে কলকাতার পুজোয় রাস্তায় হোডিং ব্যানার কিংবা গেট লাগাতে গিয়ে কোন ঝঞ্ঝাট পোহাতে হতো না উদ্যোক্তাদের। তবে নতুন সরকার আসার পর একাধিক নিয়ম জারি করা হয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে প্রত্যেক বেনার বা হোডিং লাগানোর আগে KMC-র নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) লাগবে। এর জন্য বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুরসভার বিজ্ঞাপন দফতরে গিয়ে আবেদন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া আগামী ৩ অক্টোবরের আগে ফ্লেক্স, ব্যানার লাগানো যাবে না, এবং ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব হোর্ডিং খুলে ফেলতে হবে। এখানেই শেষ নয়, পুরসভা নির্দেশ দিয়েছে যে বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের অস্থায়ী গেটের সর্বোচ্চ উচ্চতা হতে হবে ২২ ফুট। অনুমোদনপ্রাপ্ত হোর্ডিংয়ে পুরসভার পারমিশন আইডি, পুজো কমিটির নাম, বিজ্ঞাপন দাতাদের যোগাযোগ নম্বর লিখে রাখা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি ফ্লেক্স বা ব্যানার যাতে রাস্তার আলো কিংবা যাত্রী ছাউনিতে সমস্যা না করে সে দিকটাও নজর রাখতে হবে। এত কিছু দেখেশুনে অনেকেই বলছেন, পরিবর্তনের বাংলায় নতুন সরকারের আমলে আমজনতার মতোই এবার যেন মা দুর্গার মতে আগমনের ক্ষেত্রেও একাধিক নিয়মের বেড়াজাল তৈরি হচ্ছে।













