রাজ্যে পালা বদলের পর প্রথম দুর্গাপুজো। তৃণমূল আমলের কলকাতার তথা বাংলার দুর্গা পুজোয় লেগেছিল আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয় কলকাতার দুর্গোৎসবকে। এবার পূর্বতন জমানাকে ছাপিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ বিজেপির সামনে। বোধন হতে বাকি এখনও বাকি কয়েকদিন। কিন্তু দ্বিতীয়ার দিন থেকেই পুজো উদ্বোধনে রীতিমতো ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত, কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ মোট ৯ পুজোর উদ্বোধন করলেন। এই ৯ পুজো তিনি বেছে নিয়েছেন রাজনীতির নিখুঁত অঙ্ক কষেই।
মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেনে দুর্গাপুজোর ধামাকাদার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। দেবীপক্ষ পরতেই দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।রবিবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, শ্রীভূমির মতো শহরের কয়েকটি নামী পুজো উদ্বোধন করেন। তবে দ্বিতীয়ার দিনে পুজো উদ্বোধনে কার্যত পাওয়ার প্লের মেজাজে ব্যাটিং করলে মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই দিনভর ছিল ঠাসা কর্মসূচি ।কিন্তু সন্ধ্যা হতেই একের পর এক মণ্ডপে গেলেন হাসিমুখে উদ্বোধন করলেন। কখনও তৃণমূল আমলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুকের পুজোর ফিতে কাটলেন আবার শহিদ পরিবারের প্রতিষ্ঠিত পুজোতে গেলেন। আসলে প্রশাসক শুভেন্দুকে যেন ছাপিয়ে গেলেন রাজনীতিবিদ শুভেন্দু।
দ্বিতীয়ার দিনে পুজো উদ্বোধন শুরু করলেন টালা প্রত্যয় দিয়ে ।বিগত কয়েক বছরে উত্তর কলকাতা শ্রেষ্ঠ পুজো গুলির মধ্যে একটা। এই পুজোর সঙ্গে গত বছর পর্যন্ত সর্বাঙ্গীণভাবে জড়িয়ে ছিলেন শুভ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহধন্য শুভ কলকাতা দুর্গা পুজোর অন্যতম ছিলেন স্তম্ভ ছিলেন। এমনকি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও জানা যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই এই পুজোকে নিয়ে অনেক জটিলতা তৈরি হয়। বর্তমানে এই পুজোর মুখ বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি এবং উত্তর কলকাতার নেতা তমোঘ্ন ঘোষ। সেই পুজোতে উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এরপরের গন্তব্য উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন। বিগত বছর পর্যন্ত এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সঞ্জয় বক্সী। এবার ক্ষমতার পালাবদলের পরে পুজোর কমিটিতে রদবদল হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এবারও উদ্বোধন করলেন এই পুজোর। শুধু মমতার জায়গায় শুভেন্দু।
বেলেঘাটায় বিজেপি ভোটে গো হারা হেরেছে সেখানে গোষ্ঠীকোন্দলও প্রবল ।কিন্তু গোষ্ঠী কোন্দলের ক্ষতে প্রলেপ দিতে শুভেন্দু হাতিয়ার করলেন পুজো উদ্বোধনকেই। বেছে নিলেন শহিদ অভিজিৎ সরকার প্রতিষ্ঠিত সরস্বতী ও কালীমাতা মন্দির পরিষদের দুর্গাপুজোকেই। এই পুজোয় জাঁকজমক বা আড়ম্ভর খুব বেশি নেই কিন্তু নামের মাহাত্ম্য যে আছে। শহিদ পরিবারের সদস্যের প্রতিষ্ঠিত পুজো উদ্বোধন করে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন তিনি অতীতকে ভোলেন না।

উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণেও সমান তালে এই মনোনিবেশ করলেন শুভেন্দু। নিজের বিধানসভার কেন্দ্রের একাধিক পুজো উদ্বোধন করলেন তবে তাৎপর্যপূর্ণ চেতলা অগ্রণী। এই পুজোতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবীর চোখ আঁকতেন। ববি হাকিমের খাস তালুক বলে পরিচিত এই পুজো।। চেতলায় এবার অবশ্য দেখা গেল না বন্দরের বিধায়ককে । তবে ববি না থাকলেও এই পুজোর আড়ম্বর কমেনি। শোনা যাচ্ছে পিছন থেকে গোটা বিষয়টি পরিচালনা করছেন প্রাক্তন মেয়র। সেই পূজাতে হাজির হয়ে শুভেন্দু রাজনীতির পাটিগণিতের অঙ্ক আরও একবার ঝালিয়ে নিলেন ।

এবার ঢুকলেন স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে। রূপচাঁদ মুখার্জি লেনেরর পুজো উদ্বোধন করলেন। এরপরই তাঁর গন্তব্য সন্তোষপুর লেক পল্লি।সবার শেষে এলেন সাহেব পাড়ায় অ্যালেন পার্কে। প্রথমবার এখানে দুর্গা পুজার আয়োজন করেছে বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা।পার্ক স্ট্রীটে যখন এলেন তখন ঘড়ির কাঁটা এগারোটার আশেপাশে। তবু ক্লান্তিহীন মুখ্যমন্ত্রী। যীশু পুজোর ডেরায় এই পুজো এবার অন্যতম চর্চার বিষয়। বেশ কিছুটা সময় কাটালেন এখানে । উদ্বোধন করলেন মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যকে নিয়ে।

দ্বিতীয়তেই পুজো উদ্বোধনে ঝড় তুললেন , আপাতত কলকাতার পুজোগুলোই উদ্বোধন করছেন। নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরেও তিনি যে পুজো উদ্বোধন করবেন তা বলাই বাহুল্য। ফলে বোধনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো উদ্বোধনের সংখ্যাটা সেঞ্চুরি পার করলে অবাক হওয়ার থাকবে না।















