শারদোৎসবের আবহে উৎসবমুখর মহানগরী। সোমবার উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক ঐতিহ্যবাহী ও হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক দ্বারোদঘাটন সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঢাকের বাদ্যি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ধর্মীয় রীতি-আচারের মধ্য দিয়ে এদিন একগুচ্ছ পুজো পরিক্রমা ও শুভ উদ্বোধন সারেন তিনি।

এদিন শুরুতেই উত্তর কলকাতার শৈল্পিক উৎকর্ষের অন্যতম পীঠস্থান টালা প্রত্যয়ের মণ্ডপের শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। দৃষ্টিনন্দন ইনস্টলেশন ও আধুনিক শিল্পকলার সমন্বয় ঘুরে দেখেন এবং শিল্পীদের কাজের তারিফ করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবের উদ্বোধন মঞ্চে অংশ নেন তিনি। দীর্ঘদিনের পরম্পরা ও আধুনিক নান্দনিকতার মেলবন্ধনে সাজানো এই পুজোতেও সাধারণ মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।

এরপর মুখ্যমন্ত্রী যান দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রধান ভিড়-টানা পুজো ভবানীপুরের চেতলা অগ্রণী ক্লাবে। নজরকাড়া থিম ও পরিবেশনার জন্য বিখ্যাত এই মণ্ডপে পৌঁছলে উদ্যোক্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পুজো চত্বর ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে মণ্ডপটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন তিনি। এরপর তিনি যান সন্তোষপুর লেকপল্লী সার্বজনীনে। পরিবেশবান্ধব ও শৈল্পিক ভাবনার অনন্য মিশেলে তৈরি এই মণ্ডপে দেবী প্রতিমার দর্শন করে উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের সফরের অন্যতম সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব ছিল বেলেঘাটায়। সেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মী শহিদ অভিজিৎ সরকার প্রতিষ্ঠিত দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত কর্মীর স্মৃতি ও পরিবারের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে সেখানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতিটি মণ্ডপেই এদিন দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের দিনগুলিতে গোটা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং রাজ্যবাসীর সার্বিক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় শারদোৎসব উদযাপনের জন্য সাধারণ নাগরিক ও পুজো উদ্যোক্তাদের শুভেচ্ছা জানান।