হাতে আর মাত্র কয়েকদিন! এই আবহে দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরে (Haridevpur in South Kolkata) নামী দুর্গাপুজোর (Durga Puja) ক্লাব অজেয় সংহতিতে (Ajeya Sanghati) মধ্যরাতে হামলার অভিযোগ। রবিবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী ক্লাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্লাবের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করা হয়। ঘটনায় অরিজিৎ নন্দী নামে এক ক্লাব সদস্যের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার CCTV ফুটেজও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ, হামলাকারীরা ক্লাবের ভিতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি CCTV-র ড্রাইভও নিয়ে চলে যায়। আহত অবস্থায় অরিজিৎ-সহ কয়েকজন ক্লাব সদস্য স্থানীয় কাউন্সিলর রত্না সুরের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

আরও পড়ুন: উজ্জয়িনীতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা! পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ—পাল্টা পাথরবৃষ্টি

আহত ক্লাব সদস্য অরিজিৎ নন্দীর বক্তব্য, যে ক্লাব এবং দুর্গাপুজো তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের হাতে গড়ে তুলেছেন, সেই জায়গাতেই হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যে ক্লাবটা নিজেদের হাতে গড়ে তুলেছি, যে পুজোকে বছরের পর বছর বড় করেছি, সেটাই ভেঙেচুরে দেওয়া হয়েছে। CCTV-র সমস্ত ড্রাইভও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্লাবে গেলে হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট বোঝা যাবে। নিজের আঘাত নিয়ে আমি চিন্তিত নই, আমার চিন্তা ক্লাবটাকে নিয়ে। অজেয় সংহতি কলকাতার অন্যতম বড় পুজো—সেই পুজো নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা।”

আরও পড়ুন: ঋতব্রতদের পদ খারিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকারই: সময়সীমা বেঁধে জানাল সুপ্রিম কোর্ট

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর রত্না সুর। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার হরিদেবপুর থানার ওসিকে ফোন করা হলেও পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। রত্না সুরের দাবি, “আমার রাজনৈতিক পরিচয় তৃণমূল বলে বিজেপির লোকজন আমাকে নিশানা করছে। এর আগেও তাঁদের কর্মীদের বাড়িতে হামলা, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। সেগুলি রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে। কিন্তু অজেয় সংহতির মতো একটি ক্লাবে, যখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চলছে, তখন গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়—এটা সরাসরি সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।” ঘটনায় বিজেপির তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। অজেয় সংহতির মতো ৬১ বছরের পুরনো ক্লাবে হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, কেনই বা ক্লাবকে নিশানা করা হল—তা যদিও তদন্তেই স্পষ্ট হবে।