হাই কোর্টের নির্দেশের পরই গ্যালিফ স্ট্রিটের (Galiff Street) 'সখের হাটে' নেমে এসেছে অচলাবস্থা। গত দু’টি রবিবার হাটে পসরা সাজিয়ে বসতে পারেননি প্রায় ৬০০ ব্যবসায়ী। এই অভিযোগ নিয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও পুলিশ-প্রশাসনের বাধায় গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্যবসা করতে পারছেন না তাঁরা। ফলে রবিবারের পরিচিত গ্যালিফ স্ট্রিট এখন কার্যত ফাঁকা।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বৈধ ব্যবসার উপরও নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, হাটে ব্যবসা করা যাদের নথিপত্র ও ট্রেড লাইসেন্স (Trade License) রয়েছে তাদেরকেও পুলিশ প্রশাসন কাউকেই বসতে দিচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বহু বছর ধরে চলে আসা রবিবারের হাটের স্বাভাবিক চরিত্রও বদলে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘জেড প্লাস’ থেকে শুধু হাউস গার্ড! নিরাপত্তা ফেরত চেয়ে হাই কোর্টে অভিষেক

গ্যালিফ স্ট্রিটের এই হাটে দীর্ঘদিন ধরে মাছ, পাখি, গাছপালা-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর কেনাবেচা চলে। সম্প্রতি হাটে বেআইনি ভাবে সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী, পাখি বা উদ্ভিদ বিক্রির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। বৈধ নথি ছাড়া এমন সামগ্রীর বিক্রি বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশের তৎপরতায় ফাঁকা করে দিতে হয় গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট। 

এই পরিস্থিতিতে সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, বেআইনি কারবার চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু তার দায় যেন বৈধ ব্যবসায়ীদের উপর না বর্তায়। ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। আগামী ৬ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। আদালতের পরবর্তী নির্দেশেই স্পষ্ট হবে, কীভাবে গ্যালিফ স্ট্রিটের হাটে বৈধ ব্যবসা ফের চালু করা যায় এবং একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশও কার্যকর রাখা যায়। আপাতত অনিশ্চয়তায় কয়েকশো ব্যবসায়ীর রোজগার এবং উত্তর কলকাতার বহু বছরের এই রবিবারের হাট।